আবার মুখোমুখি তুরস্ক ও ইরাক!

১২ই Auguই, ২০২০ || ১০:১৩:৩৭
17
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
দীর্ঘ সংঘাতের পর ধীরে ধীরে শান্তির পথে হাঁটছে ইরাক। জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর পতনের পর দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়েছে। ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের সঙ্গে সুসম্পর্ক চলছে এই মুহূর্তে দেশটির ইরান সমর্থিত সরকারের।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তুর্কি ড্রোন হামলায় তুরস্ক ও ইরাকের সীমান্তবর্তী অঞ্চল সিদাকানে ইরাকের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের দুই কর্মকর্তাসহ নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। যার মধ্যে ইরাক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৫ জন ও কুর্দি গেরিলা ছিলেন ১০ জন।

তুরস্কের সঙ্গে যখন সু-সম্পর্ক চলছে ইরাকের তখন হঠাৎ দেশটির এমন পদক্ষেপে চটেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। ঘটনার আপেক্ষিকতায় শুরু হয়েছে কুর্দিস্তানে বিক্ষোভ। ইরাক সরকার বুধবার (১২ আগস্ট) মধ্যে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে পূর্ব নির্ধারিত সফরে ইরাক না আসার জন্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুর্দি গেরিলাদের সঙ্গে ইরাকি নিরাপত্তাবাহিনীর একটি বৈঠক চলছিল যখন তখন এই হামলা করে তুরস্ক। এতেই খেপেছে ইরাকিরা। এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলেও বর্ণনা করা হয় ওই বিবৃতিতে। ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু ইরাকের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই ছিলো।

সেখানকার কর্দুদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কুর্দিস্তান এলাকা নিয়ে একটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কুর্দিস্তান বলতে তারা তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, ইরাকের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে বুঝিয়ে থাকে। এই অঞ্চলগুলোতে কুর্দিদের বসবাস।

ইরাকের জনসংখ্যার আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ ভাগ কুর্দি। ঐতিহাসিকভাবে, আশেপাশের যে কোনো রাষ্ট্রে বসবাসরত কুর্দিদের চেয়ে বেশি নাগরিক অধিকার এবং সুবিধা ভোগ করেছে তারা। কিন্তু তারা অন্যদের চেয়ে বেশি নিষ্ঠুর অত্যাচারেরও শিকার হয়েছে।

কুর্দিরা ছড়িয়ে রয়েছে ইরান, ইরাক, তুরস্ক ও সিরিয়ায়। এই দেশগুলো সীমান্তে যেখানে সংযোগ সেই সব এলাকাতেই বসবাস কুর্দিদের। কুর্দিরা নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে এই দেশগুলো কুর্দিদের প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করে থাকে।

তবে, ইরাকে কুর্দিরা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। যেটি অন্য দেশের অংশ হিসবে থাকা কুর্দিরা পারেনি। গতমাসে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে পিকেকে গেরিলাদের উপর হামলা চালায় তুরস্ক। সামরিক ওই অভিযানকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেয় ইরাক। তুরস্কের ওই হামলায় বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করে ইরাক।

তুরস্ক পুরাতন আগ্রাসী নীতি চালিয়ে যাওয়ার ফলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে ইরাক।