সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যেই আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীর পদচারণায় আবার মুখর সুপ্রিম কোর্ট

১২ই Auguই, ২০২০ || ০২:৫২:২১
7
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই দীর্ঘদিন পর অবশেষে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখর হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ।

বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে হাইকোর্টের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম। সেই সাথে চলছে ভার্চুয়াল হাইকোর্ট ও আপিল বেঞ্চ।

সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সকলের মুখেই এদিন মাস্ক দেখা গেছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবার তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। আর আদালত কক্ষের সামনে এবং বিভিন্ন দপ্তর প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রাখলেও সারিবদ্ধ সবাইকে দাড়াতে দেখা গেছে।

এতদিন পর উচ্চ আদালতে এসে নিজের অনুভুতি সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আজ মনে হচ্ছে যেন আবার প্রানের জায়গায় ফিরে এসেছি। আজ থেকে আবার কর্মময় ব্যস্ততা বাড়বে। নিরাপদে থেকে যেন আগামী দিনগুলো অতিবাহিত করতে পারি সেটাই প্রত্যাশা।’

গত সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ৩৫টি ভার্চুয়াল ও ১৮টি শশরীরি হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছেন। ৩৫টি ভার্চুয়াল বেঞ্চের মধ্যে ২৪টি দ্বৈত ও ১১টি একক বেঞ্চ। আর ১৮টি শশরীরি বেঞ্চের মধ্যে ১৩টি দ্বৈত ও ৫টি হচ্ছে একক বেঞ্চ। এসব বেঞ্চে আজ সকাল থেকে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের বিচারপতি এবং আইনজীবীদের নির্ধারিত ড্রেসের ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে। কোর্ট ড্রেসের বাধ্যাতামূলক অনুষঙ্গ কালো কোর্ট ও গাউন ছাড়াই এখন সাদা শার্ট-প্যান্ট/শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরে মামলার শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন বিচারপতি এবং আইনজীবীরা।

এর আগে দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে আদালত পরিচালনা বন্ধ হয়ে গেলে অনেক আইনজীবী ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সোচ্চার হন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘ফুল কোর্ট সভা’ থেকে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।

সেই প্রেক্ষাপটে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে স্বশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে “আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ- ২০২০” নামে গত ৯ মে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন (বর্তমানে যেটি আইন) রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে গত ১০ মে ভার্চুয়াল আদালত সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হয়। যেখানে ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের জন্য আলাদা আলাদা ‘প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ দেয়া হয়। এছাড়া আইনজীবীদের জন্য প্রকাশ করা হয় ‘ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল’।

এরই ধারাবাহিতায় গত ১১ মে থেকে দেশে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে দেশের অধস্তন আদালত, এরপর হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত ও আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম চলতে থাকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। এরপর গত গত ৫ আগস্ট থেকে দেশের সকল অধস্তন আদালতসমুহে শারীরিক উপস্থিতিতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।