মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ৪ পুলিশসহ ৭ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

১২ই Auguই, ২০২০ || ০২:২০:২৫
11
Print Friendly, PDF & Email

ডিষ্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার:
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তাঁর বোনের করা হত্যা মামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ সাতজনকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আজ বুধবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের এ আদেশ দেন।

কক্সবাজার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড মঞ্জুর করা চার পুলিশ সদস্য হলেন- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন। অপর তিনজন হলেন- মো. আয়াছ, মো. নুরুল আমিন ও মো. নাজিমুদ্দিন। তাঁরা মেজর সিনহার মৃত্যুর পর টেকনাফ থানায় পুলিশের করা দুটি মামলার সাক্ষী। গতকাল তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব।

গত ৬ আগস্ট মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ১ নম্বর আসামি টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, ২ নম্বর আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও ৩ নম্বর আসামি উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের আদালত।

অন্যদিকে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৮ ও ৯ আগস্ট কক্সবাজার কারাগারের জেলগেটে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। পরদিন ১০ আগস্ট তাঁদের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে র‍্যাব। আদালত আজ আদেশ দেন।

গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। আর রামু থানায় একটি মামলা করে।

পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।

এদিকে, পুলিশের করা মামলায় দুই আসামি সিনহা রাশেদের দুই সহযোগী সাহেদুল ইসলাম সিফাত গত সোমবার এবং অপর সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ গত রোববার জামিনে মুক্ত হয়েছেন।

সিফাতের জামিন মঞ্জুরের আদেশ পাওয়ার পর তাঁর আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা করে। এসব মামলা র‍্যাবকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় সিনহা রাশেদের বোন একটি মামলা করেছিলেন। এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করে র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।