নানা আলোচনা-সমালোচনা, কেন বন্ধ হচ্ছে করোনা বুলেটিন?

১১ই Auguই, ২০২০ || ১১:১২:৫১
14
Print Friendly, PDF & Email

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
মহামারী করোনা ভাইরাসের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে বন্ধ হয়ে হচ্ছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, আমিও সেটা শুনেছি বুলেটিন আর প্রচার হচ্ছে না। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখেন কি হয়।

মূলত প্রতিদিনের এই স্বাস্থ্য বুলেটিনে করোনা বিষয়ক নিয়মিত তথ্য ছাড়াও নিয়ম করে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হতো। তারপরও কেন বুলেটিন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এই নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, মূলত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই এই বুলেটিন বন্ধ হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ও পরিস্থিতি ভালোর দিকে থাকায় বুলেটিন বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

চলমান করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমে এসেছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বুলেটিন কেন বন্ধ হচ্ছে এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেভাবে টেলিভিশনে এসে একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বুলেটিন প্রচার হতো, এখন হয়তো সেভাবে আসবে না। আগামীতে লেখায় আসবে, একটা প্রেস রিলিজের মতো করে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় শেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন পরিবেশন করা হবে অনলাইনে। বুধবার থেকে গণমাধ্যমের কাছে প্রেস রিলিজ আকারে করোনা বিষয়ক আপডেট পাঠানো হবে।

এর আগে গত সাত এপ্রিল করোনা বিষয়ক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের থেকে প্রশ্ন নেওয়া বাদ দেয়া হয়। এসময় থেকে এটি বুলেটিন নামে প্রচারিত হতে থাকে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা ইস্যুতে প্রথম ব্রিফিং আয়োজন করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা তখন করোনা বিষয়ক সকল তথ্য দিতেন। সেই সময় করোনা বিষয়ক ব্রিফিং দেশের মানুষের আগ্রহে পরিণত হয়।

গত পাঁচ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের পূর্ব অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে অধিদফতরের কর্মকর্তাদের কথা বলতে নিষেধ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মুখপাত্র হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং অধিদফতরের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিয়মিত ব্রিফিং ছাড়াও এই সকল বক্তব্য ও মন্তব্যের কারণে অনেক সময় সরকারকেও বিব্রত হতে হয়েছে।