৪০ শতাংশ করোনা রোগীই উপসর্গবিহীন

৯ই Auguই, ২০২০ || ০৬:১৭:৪৫
20
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। এই মহামারি ভাইরাসটির ধরণধারণ বুঝতে গভীরে গিয়েই গবেষণা চালাচ্ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমণজনিত রোগী বিশেষজ্ঞ মনিকা গান্ধী। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, যেখানে সারাবিশ্বে লাখ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, সেখানে কিছু মানুষ আক্রান্ত হয়েও তাদের দেহে কোনো লক্ষণই নেই।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

বোস্টনের একটি গৃহহীনদের আশ্রয় কেন্দ্রের ১৪৭ জন বাসিন্দাই করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। তবে তাদের ৮৮ শতাংশের কোনো উপসর্গ নেই। অথচ তারা একই জায়গায় মিলেমিশে বাস করছে।

আরকানসাসের স্প্রিংডেলে একটি খাবার উৎপাদন কারখানায় ৪৮১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তাদের ৯৫ ভাগেরই কোনো উপসর্গ ছিল না।

শুধু তাই নয়, আরকানসাস, উত্তর ক্যারোলাইনা, ওহাইয়ো ও ভার্জিনিয়ার কারাগারগুলোতে ৩ হাজার ২৭৭ জন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছে। তবে তাদের ৯৬ ভাগের শরীরে কোনো উপসর্গ ছিল না।

সানফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসা গবেষক মনিকা ভাবলেন, বিশ্বে যেখানে গত সাত মাসে সাড়ে সাত লাখ মানুষ করোনার ছোবলে প্রাণ হারালেন, সেখানে একটি অংশের মানুষের দেহে কোনো আচড়ই বসাতে পারলো এই প্রাণঘাতি ভাইরাস। এটি কিভাবে সম্ভব হতে পারে?

মনিকা ভাবলেন,এই মানুষগুলো কীসে রক্ষা পেলেন? তবে কি তাদের দেহে ভাইরাসের সামান্য অংশই প্রবেশ করেছে? নাকি জেনেটিক কোনো সুরক্ষা রয়েছে, তাদের দেহে? কিংবা কিছু মানুষের দেহে কি আগে থেকেই করোনা প্রতিরোধী শক্তি ছিল?

গবেষক মনিকার মতে, সেই যাই হোক, একটি বিশাল অংশের মানুষের দেহে এই করোনা যে কিছু করতে পারেনি, এটি একটি ভালো দিক। এটি তার ব্যক্তিগত ভাবেও ভালো, সমাজের জন্যও ভালো। এভাবেই হয়তো একদিন করোনা বিদায় নেবে।