গরম পানি দিয়ে কাপড় পরিষ্কারের সুবিধা ও অসুবিধা

৯ই Auguই, ২০২০ || ০৩:১৩:৫৯
29
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
কাপড় পরিষ্কার করা দৈনন্দিন কাজের মধ্যে একটি। সময়, সুবিধা ও কাপড় ভেদে কাপড় পরিষ্কার করা হয়। ওখানেও প্রতিটা ক্ষেত্রে বিবেচনা করে কাজ করতে হয় । কোনটি কাপড় কাচবেন সাবান নাকি ডিটারজেন্ট দিয়ে? সাদা ও রঙিন কাপড় আলাদা করে পরিষ্কার করবে নাকি একসাথে? গৃহিণীরা অবশ্য প্রতিটা পদক্ষেপ সঠিক নিয়ে থাকেন।

বর্তমান যুগকে বলা হয় ইলেক্ট্রনিক্স যুগ। মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে যেখানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইলেক্ট্রনিক্সের ছোঁয়া, সেখানে হাতে কাপড় পরিষ্কার করার দিন ক্রমেই শেষ হয়ে আসছে। ওয়াশিং মেশিনে এখন অল্প সময়ে পরিশ্রম ছাড়াই কাপড় যায়। সব কাপড় মেশিনে পরিষ্কার করা যায় না, কাপড়ের গায়ে নির্দেশিকা থাকে যা দ্বারা বোঝা যায়।

সব বিতর্কের অবসান না হয় হলো কিন্তু একটা বিষয় অমিমাংসিত থেকে যায়। গরম পানি দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করবেন নাকি ঠান্ডা পানি দিয়ে? কোনটিতে উপকার বেশি? কোনটি ক্ষতিকর কাপড়ের জন্য? এ তর্কের শেষ নেই। কিন্তু জানা আছে কি গরম বা ঠান্ডা পানিতে কাপড় পরিষ্কার করার সুবিধা বা অসুবিধা?

চলুন,আজ গরম পানিতে কাপড় পরিষ্কার করার সুবিধা ও অসুবিধা জেনে আসি। অন্যকোন দিন না হয় ঠান্ডা পানিতে কাপড় পরিষ্কার করার সুবিধা ও অসুবিধা জানা যাবে।

সুবিধা

গরম পানি কাপড় পরিষ্কার ও দুর্গন্ধ দুটোই দূর করে

কথায় আছে আর যে কিছুরই গন্ধ সহ্য করা যাক বা না যাক মোজা ও ঘামের দুর্গন্ধ সহ্য করা যায় না। আপনার ছেলে মেয়ে যারা রোজ স্কুল কলেজে যাতায়াত করে বা আপনার অফিসগামী স্বামীর কারনে এইসব দুর্গন্ধে সাথে আপনি রোজ পরিচিত হয়ে উঠবেন। অনেক সময় বিরক্ত ও হয়ে উঠবেন।

প্রতিদিন পরিষ্কার করার পরও হয়তো কোনদিন ঠিকমত পরিষ্কার হয় নি আবার কাপড়ে দুর্গন্ধও থেকে যায় । তাই এ গুলো ধুতে ব্যবহার করুন গরম পানি। এটি যে শুধু দুর্গন্ধ দূর করবে তা না বরং ধোয়ার পর পরিষ্কার ও তাজা গন্ধ বের হবে ।

গরম পানি জীবাণু ধ্বংস করে

ঘাম থেকে জন্ম হয় অসংখ্য জীবাণুর যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। এইসব জীবাণু পোশাকেও লেগে থাকে যা পরবর্তীতে পরিধান করলে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়। গরম পানি এইসব জীবাণু ধ্বংস করে।

অসুবিধা

গরম পানি প্রকৃতির বিপরীতে কাজ করে

জীবনকে সহজ আর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে কত কিছুই না ব্যবহার করি আমরা ।কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছি কি জীবনযাত্রার সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যতা আনতে পরিবেশকে কতটা বিরূপ প্রক্রিয়ায় ফেলছি ? গত দশকের আগে থেকেই বা আমরা পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব নিয়ে চিন্তিত ।

ওয়াশিং মেশিনে পানি লোড করে গরম করতে অনেক বিদুৎ খরচ হয় । ১ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল পরিমান কয়লা/গ্যাস পোড়াতে হয় ও এর থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড পরিবেশের অত্যন্ত ক্ষতি করে।

গরম পানি আপনার কাপড়ের রঙ নষ্ট করে দিতে পারে

কাপড় সব সময় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করবেন। গরম অথবা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করবেন না। হালকা রঙের কাপড়গুলো গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে তেমন ক্ষতি না হলেও বিশেষ করে গাঢ় রঙের কাপড়ের অনেক ক্ষতি হয়।
গরম পানি কাপড়ের বুনোট নরম করে ফেলে ফলে কাপড় খুব দ্রুত নরম হয়ে যায়। এতে কাপড় বেশিদিন স্থায়ী হয় না ও কাপড়ের রঙ নষ্ট হয়ে যায়।

গরম পানি সূক্ষ্ম ফ্যাব্রিকস নষ্ট করে দেয়

উল বা সিল্ক দিয়ে তৈরি কোন কাপড় কেনার সময় তা পরিষ্কারের নির্দেশনা দেয়া থাকে। উল বা সিল্কের তৈরি কাপড় গরম পানিতে ধুলে কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। যদিও সিল্ক ঠান্ডা পানিতে ধোয়া ঠিক নয় তাই সিল্কের কাপড় পরিষ্কার করতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত। উলের পোশাক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে উল বেশিক্ষণ ডিটারজেন্ট বা সাবান জলে রাখা ঠিক না এতে উল নষ্ট হয়ে যায়।

কাপড়ের দাগ দূরীকরণে দ্বিধায় পড়া

কাপড়ের দাগ দূরীকরণেও অনেক সময় দ্বিধায় পড়ে যেতে হয় যে আপনি গরম পানি নাকি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন।

অবশ্যকাপড় ও কাপড়ে লাগা দাগের উপর নির্ভর করে আপনি কোন পানি দিয়ে ও কি ভাবে দাগ তুলবেন। সাধারণত গরম পানি প্রোটিন-ভিত্তিক দাগগুলিতে সর্বোত্তম কাজ করে যেখানে ঠান্ডা পানি কাপড়ে খাবার, পানীয় থেকে লাগা দাগ দূর করে।

বেশিরভাগ খাবারের দাগ ঠান্ডা পানিতে পরিষ্কার করা উচিত ও ডিম, সরিষা বা টমেটোজাতীয় খাবারের দাগ গরম পানিতে পরিষ্কার করব উচিত। আবার
ঘাম ও বমি দাগও গরম গরম গরম পানিতে পরিষ্কার করতে হয়।

এখানে কোন দাগগুলি গরম পানি ও ঠান্ডা পানিতে পরিষ্কার করবেন তার একটি নির্দেশনা দেওয়া হলো :

ঠান্ডা পানি দিয়ে যে সব দাগ পরিষ্কার করবেন

• শিশুর খাদ্য
• রক্ত
• পনির
• চকলেট
• কফি ও চা
• জেলি ও জ্যাম
• দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য
• পেইন্ট (জল ভিত্তিক)
• সফট ড্রিংকস
• সয়া সস
• ওয়াইন,বিয়ার ও ককটেল

গরম পানি দিয়ে যেসব দাগ পরিষ্কার করবেন

• নোংরা / কাদা
• ডাই ও মার্কার
• ডিম
• ঘাস
• চর্বি
• তেল
• টমেটো বা টমেটোর তৈরি কোনো খাবার
• লোশন
• সরিষা
• ঘাম
• বমি, প্রস্রাব

গরম পানি দিয়ে কীভাবে কাপড়ের দাগ দূর করবেন?

• বর্ষাকালে হরহামেশা বৃষ্টি আর এতে রাস্তাঘাটে জমে থাকা পানি আর কাদা থেকে আপনার পোশাকে কাদা লেগে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করতে হবে। ২ টেবিল চামচ ব্লিচিং পাউডার ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। পেস্টটি দাগের উপর লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এরপর গরম পানি নিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

• মার্কারের দাগ কিন্তু সহজে যাতে চায় না।
সাদা টুথপেস্ট দাগের উপর লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।

• যারা খেলাধুলা করেন বা যদি আপনার বাচ্চা রোজ খেলাধুলায় মেতে থাকে তাহলে ঘাসের দাগ আপনার অতি পরিচিত দাগের মধ্য একটি। ঘাসের দাগ দূর করতে কাপড়টিকে ভিনেগারে ভিজিয়ে রাখুন ২০-২৫ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

• বমির দাগ উঠানোর জন্য ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেললেই দাগ দূর হবে।

• ঘাম দূর করার জন্য লবণ একদম সঠিক উপাদান। দাগের জায়গাটি ভিজিয়ে লবণ দিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

• ছোট বাচ্চা থাকলে বিছানার চাদর বা কাপড় থেকে প্রস্রাবের দাগ ও দূর্গন্ধ দুটোই পাওয়া যাবে। এ দাগ দূর করা নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। প্রস্রাবের দাগ দূর করার জন্য গরম পানি ও সাদা ভিনেগার মিশিয়ে দাগযুক্ত কাপড় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।