বৈরুত বিস্ফোরণের সন্দেহের তালিকায় বন্দর কর্মকর্তাগণ

৬ই Auguই, ২০২০ || ১২:১৬:৩৬
7
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্ক:
লেবাননে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তের জন্য বৈরুত বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানায়।

৪ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈরুত বন্দরে মারাত্মক এক বিস্ফোরণে অন্তত ১৩৫ জন নিহত এবং চার হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, এ ঘটনায় ঘর হারিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। বিস্ফোরণে তাদের ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে।

এ ঘটনার পর লেবাননে দুই সপ্তাহের জরুরি অবস্থা জারি করেন প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন।

তিনি বলেন, বন্দরের একটি গুদামে অনিরাপদভাবে মজুদ করে রাখা ২ হাজার ৭শ’ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।

তথ্যমন্ত্রী মানাল আবদেল সামাদ বলেন, ‘২০১৪ সালের জুন মাস থেকে বন্দরের যেসব কর্মকর্তা এ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা, পাহারা দেওয়া এবং এর কাগজপত্র সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে গৃহবন্দি করা হবে। ’

এদিকে কাস্টমস চিফ বদরি দাহের দাবি করেন, তার এজেন্সি থেকে রাসায়নিক পদার্থটি সরানোর আহ্বান জানালেও ‘সেটি হয়নি’।

তিনি বলেন, ‘কারণ (বিস্ফোরণের) বের করার দায়িত্ব আমরা বিশেষজ্ঞদের ওপরই ছেড়ে দিলাম। ’

কৃষিকাজে সার হিসেবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয় এবং বিস্ফোরক দ্রব্য হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, ‘গত রাতে বৈরুত যে আঘাতের শিকার হয়েছে তার ভয়াবহতা কোনো শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা যাবে না। এতে বৈরুত দুর্যোগে বিপর্যস্ত একটি শহরে পরিণত হয়েছে। ’

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে আঘাত হানা পারমাণবিক বোমা ‘লিটল বয়’ এর প্রায় দশ ভাগের একভাগ শক্তিশালী ছিল বৈরুতের বিস্ফোরণ এবং ‘এটি নিঃসন্দেহে ইতিহাসের বৃহত্তম অপারমাণবিক বিস্ফোরণগুলোর একটি। ’

জানা গেছে, ২০১৩ সালে বাজেয়াপ্ত একটি জাহাজ থেকে এসব অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট আটক করে বৈরুত বন্দরের একটি গুদামে রাখা হয়, যা সেখানেই ছয় বছর ছিল।

বৈরুত বন্দরের প্রধান এবং কাস্টমস প্রধান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানান, বন্দরের নিরাপত্তার জন্য এসব রাসায়নিক পদার্থ রপ্তানি বা বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তারা বিচারবিভাগকে কয়েকবার লিখিত আবেদন করেছিলেন।

বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার হাসান করায়তেম দাবি করেন, আদালত থেকে যখন রাসায়নিক পদার্থটি গুদামে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন তারা জানতেন সেটি বিপদজনক ছিল কিন্তু ‘এতোটা বিপদজনক তা তাদের জানা ছিল না’।

এ ঘটনায় দায়ীদের ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ দেওয়া হবে বলে অঙ্গিকার করেছে লেবাননেন সুপ্রিম ডিফেন্স কাউনসিল।