তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্যবিধির, নওগাঁয় বিল দেখতে উপচে পড়া ভীড়

৫ই Auguই, ২০২০ || ১১:৪৯:৫১
18
Print Friendly, PDF & Email

আমিনুল জুয়েল, নওগাঁ:
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। এই খুশির ক্ষণকে অনেকেই নানাভাবে উপভোগ করেছেন। তবে, এ বছর করোনার প্রাদুর্ভাব এবং বন্যা অনেক জেলাতেই ঈদের আনন্দকে ছুঁয়ে যেতে পারেনি। করোনার আতঙ্ক এবং বন্যার স্রোত যেন অনেক মানুষেরই ঈদকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

নওগাঁর মান্দা, রানীনগর, আত্রাই ও সাপাহার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ঈদের আনন্দ ছিলনা অনেকের মনে। আবার অনেকেই ঈদের পুরো সময়টি কাঁটিয়েছেন বাঁধে অথবা শুকনো কোন নিরাপদস্থানে। অন্যদিকে, বন্যা কবলিত অনেক এলাকায় ঈদের জামায়াতও হয়নি। মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সারা দুনিয়াকে থমকে দিয়েছে। এরমধ্যে বন্যার স্রোত যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। করোনা ঝুঁকি নিয়েই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ ছুঁটে আসছেন এই বিলে। তবে, দর্শনার্থীরা কেউই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

মহামারী করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই জেলার সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে ভ্রমণ পিয়াসীদের উপচে পড়া ভিড় বেড়ে গেছে। ঈদের ছুটিতে বিনোদনের অংশ হিসেবে সব বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে জবই বিল এলাকা।

তবে, কেউই মানছেননা স্বাস্থ্যবিধি। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার নেই কোন তোয়াক্কা। নেই আইন শৃংখলা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি। এতে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে বলে অশংকা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সরেজমিনে ঐতিহ্যবাহী ওই বিলে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে সাপাহার উপজেলাসহ বিভিন্নস্থান থেকে ছুঁটে এসেছে ভ্রমণ পিয়াসীরা। এ যেন নয়নাভিরাম দৃশ্য। বিলের অথৈ পানিতে অবিরাম ছুটে চলছে স্পিডবোট ও নৌকা। তীব্র বাতাসের ঢেউ এসে ধাক্কা দিচ্ছে রাস্তার দুই ধারে। ছিঁটে আসা জলরাশি ছুঁয়ে মজা করছেন দর্শনার্থীরা। হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও। প্রকৃতি প্রেমীদের এ যেন মিলনমেলা।

এখানে, বিলের পানিতে স্পিডবোট ও নৌকা ঘন্টা চুক্তিতে ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জবই বিলের রাস্তার দুই ধারে বসেছে হরেক রকমের খেলনা, বাঁশি, বেলুন, ভুঁভুঁজেলা এবং খাবারসহ অনেক ধরনের দোকান। বিনোদন পিপাসুরা বিলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউবা ক্যামেরা ও আবার কেউ মোবাইল ফোনে সেলফি ও ছবি ধারণ করছে। গাঁদাগাদি করে মানুষের ভীড় পাড় হতে অনেকেই হাঁপিয়ে উঠছেন। অনেকের মধ্যেই নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার নূন্যতম আগ্রহ। অনেকেই মাস্ক নিয়ে আসলেও তা পকেটে আবার কেউ ব্যাগের মধ্যে সংরক্ষিত রেখেছেন।

জবই বিলে ঘুরতে আসা অনেক দর্শনার্থীরাই জানান, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং বন্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাইরে ঘুরতে যাওয়া হয়নি। এই ঈদকে ঘিরে অনেকেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন জবই বিল এলাকায়। এখানে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন। তবে, সেটি সংখ্যায় অনেক কম। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তবে, সকলেরই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমন করা দরকার বলে মনে করেন ঘুরতে আসা বেশির ভাগ দর্শনার্থীরা।

সচেতন মহলের আশংকা, এই বিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। ফলে এই এলাকার মানুষের মধ্যে করোনা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন তাঁরা। নচেৎ এই এলাকা করোনার আতুড় ঘরে রুপান্তর হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।