এবার গ্রামে কোরবানির সংখ্যা কম, মাংসের জন্য শহরমুখী দুস্থরা

8
Print Friendly, PDF & Email

সুনামগঞ্জ থেকে করসপন্ডেন্ট:
করোনা ও বন্যার কারণে সনামগঞ্জে কমে গেছে শরিকান কোরবানির তাই গ্রামের নারী, পুরুষ শিশুরা মাংসের জন্য দল বেঁধে শহরে আসছেন। শহরের হাজীপাড়া, পশ্চিমহাজীপাড়া, নুতনপাড়া, ষোলঘর, উকিলপাড়া, বনানীপাড়া, তেঘরিয়া, হাছননগরসহ সবকটি এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ এসেছেন কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য।

এ বিষয়ে কথা হয় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের হারিছ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, অন্যান্যবার গ্রামে ৫ থেকে ৬ জন শরিক হয়ে কোরবানি দিতেন । এবছর বন্যা ও করোনার কারণে শরিকান কোরবানির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই গ্রামের মানুষ মাংসের জন্য ভোর বেলা থেকে শহরে এসে অবস্থান করছেন।

সাদকপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, তিনমাস যাবত কোন কাজকর্ম নেই। ঘরে বসে বেকার দিন কাটিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের জন্য নূতন জামাকাপড় তো দূরের কথা ঈদের দিন একবেলা মাংস সন্তানদের মুখে তুলে দেয়ার জন্য তিনি শহরে এসেছেন।

আম্বিয়া খাতুন (২৭) বলেন, তার পরিবারের লোকসংখ্যা ৯ জন। ৩ ছেলে ৩ মেয়ে সবাই ছোট ছোট। ঘরে ত্রাণের চাল ছাড়া আর কোনো বাজার সদাই নেই। সারা দিন শহরে ঘুরে ঘুরে মাংস সংগ্রহ করে রাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে রান্না করে এক সঙ্গে খাবেন।

সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের টুকেরবাজার গ্রামের লোকমান হোসেন বলেন, গেল ঈদে গ্রামে ৭/৮ টি গরু কোরবানি হয়েছিলো এবার ৫টিও হয়নি। তাই গ্রামের গরীব মানুষের মাংস পাওয়া অনিশ্চিত । এজন্য সবাই শহরের দিকে ছুটে আসছেন।

কোরবান নগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাও গ্রামের জুয়েল মিয়া বলেন, করোনার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গ্রামের দরিদ্র মানুষ শহরে আসছেন। তাদের কারো মুখে মাস্ক নেই। এক টুকরো মাংস যোগাড় করতে এপাড়া থেকে ও পাড়ায় দৌড়চ্ছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের দবির মিয়া বলেন, তিনবারের বন্যায় তারা সর্বশান্ত। আমন ধানের বীজ কেনার ক্ষমতা নেই তার মাংস কিনবেন কি দিয়ে। তাই শহরে এসেছেন মাংসের আশায়। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফুল মিয়া বলেন, গ্রাম ও শহরের মানুষ বন্যা এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধনী দরিদ্র সবার আয়-রোজগার কমে গেছে এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির ঈদে। তাই এবছর অনেকেই কোরবানি দিতে পারেননি।

লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন, করোনা বন্যার কারণে কর্মক্ষম মানুষ ঘরে বসে বেকার দিন কাটিয়েছেন। এবছর জেলার বাইরে গিয়ে কাজ করার কান সুযোগ গ্রামের শ্রমজীবী মানুষ পায়নি। তাই তারা অনেক অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, গ্রামের চেয়ে শহরে কোরবানি বেশি হয়। তাই প্রতিবছর ঈদে গ্রামের দরিদ্র মানুষ শহরে এসে ভিড় জমান মাংসের জন্য। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যায় জেলার ১১ টি উপজেলার ৮৮ টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভায় ১৫টি ওয়ার্ডের ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭১২ জন লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানি বন্দী রয়েছে ১ হাজার ৯৫০ টি পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৪২ মেট্রিকটন চাল, নগদ ২৪ লাখ টাকা, ৪ লাখ টাকার শিশু খাদ্য ও ৬ লাখ টাকার গোখাদ্য ও ঢেউটিন, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ঈদের আগে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন চাল। পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ঈদের আগে চাল বিতরণ করা হয়। যতদিন ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা থাকবে ততদিন বিতরণ করা হবে। সুনামগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, ত্রাণের কোন সংকট নেই। দুর্গত এলাকায় ঈদের আগে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কোন মানুষ বর্তমান সরকারের আমলে একবেলাও না খেয়ে থাকবে না। সে ব্যবস্থা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যত ত্রাণ লাগবে তত দেয়া হবে। কৃষকদের মধ্যে আমন ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ও দল সব সময় দুর্গতদের পাশে আছে ও থাকবে।