‘স্বাভাবিক পানিতেই ধ্বংস হবে করোনা’ বলছেন রুশ বিজ্ঞানীরা

৩১ই জুলাই, ২০২০ || ০৮:২৪:০৪
17
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
এক গবেষণায় রুশ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, পানি দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা ভাইরাসকে প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধংস করা সম্ভব।

‘ভাইরাসের অস্তিত্ব সরাসরি নির্ভর করে পানির তাপমাত্রার ওপর। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তপ্ত পানিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাসের ৯০ শতাংশ কণা ধ্বংস হয়ে যায়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংস হয় ভাইরাসের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ উপস্থিতি।’

রুশ রাষ্ট্রীয় ভাইরোলজি এবং বায়োটেকনোলজি ভি.ই.সি.টি.ও.আর এক গবেষণায় এ তথ্য জানিয়েছে।

‘গরম পানিতে করোনা ভাইরাস মুহূর্তে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রুশ ফেডারেল সার্ভিস ফর হিউম্যান ওয়েলবিংয়ে প্রকাশিত গবেষণায় আরো বলা হয়, পানিতে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস টিকে থাকতে পারে। তবে সাগরে বা বিশুদ্ধ পানিতে ভাইরাস সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না।’

এছাড়া, স্টিল, লিনোলিয়াম, গ্লাস, প্লাস্টিক এবং সিরামিকের উপরে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাস টিকে থাকতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘যে ভাইরাস পরিবর্তনশীল। তবে ঘরোয়াভাবে করোনাকে নির্মূল করা সম্ভব।’

গবেষণায় বলা হয়, ‘৩০ শতাংশ ঘনত্বের ইথাইল এবং আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল আধা মিনিটের মধ্যে ভাইরাসের এক মিলিয়ন কণা মারতে পারে।’ আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, করোনা ধ্বংসে অ্যালকোহলের পরিমাণ ৬০ শতাংশ থাকতে হবে। যা নতুন গবেষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ক্লোরিনযুক্ত জীবাণুনাশক ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে করোনা ভাইরাসকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’

এদিকে, করেনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের দাবি করেছে রাশিয়া। গামালিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের টিকা ১৫ আগস্টের মধ্যে সাধারণের জন্য বাজারে ছাড়া হবে। সরকারি তথ্যের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী তাতয়ানা গোলিকোভাও বলেছেন, ‘আগেস্টর মধ্যে টিকার নিবন্ধন হয়ে যাবে। সেপ্টেম্বরে গণউৎপাদন শুরু হবে।’

নিবন্ধন পাওয়ার পর আরেকটি ট্রয়াল শুরু হবে ভ্যাকসিনটির। ১ হাজার ৬শ’ মানুষের উপর ওই ট্রায়াল চালানো হবে। উৎপাদন চলাকালে ট্রয়াল চলবে বলেও জানানো হয়।।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি ভ্যাকসিনটি শর্তসাপেক্ষে সেপ্টেম্বরে নিবন্ধন পাবে। সেটি অক্টোবরে বাজারে আসতে পারে বলে জানানো হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি টিকা চাচ্ছে। কারণ সামনে দেশটিতে শরত এবং শীতকাল। ওই সময়ে স্বাভাবিকভাবে ঠাণ্ডা, ফ্লু এবং শ্বাসযন্ত্রে নারারকম ভাইরাল সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তার সঙ্গে যদি করোনা নতুনভাবে ছড়ায় তাহলে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে যে কারো জন্য। তাই শীত মৌসুমের আগেই ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো।

রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো বলেছেন, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের স্বাস্থ্যের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যক্ষেণে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। নতুন ওই অ্যাপে ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সবধরনের তথ্য হালনাগাদ করে রাখা হয় ‘

ক্লিনিক্যাল ট্রয়ালের অনুমতির জন্য বিশেষজ্ঞরা আরো দুটি টিকা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন বলেও জানান রুশ স্বাস্থমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে রাশিয়ায় ১ লাখ করোনা রোগী রয়েছে। হাসপাতালে চিতিৎসা নিচ্ছে গুরতর অসুস্থ ৮ হাজার রোগী। বাকিদের মৃদু উপসর্গ থাকায় বাড়িতে কোয়ারিন্টিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩৫ হাজারের মতো। মারা গেছে ১৩ হাজার ৮শ’র বেশি। সুস্থ হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি।