রামগড়ে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, ঘাতক স্বামী আটক

২৮ই জুলাই, ২০২০ || ০৯:২৪:২৭
11
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হাসান রাকিব, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায় স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে স্বামী ওমর ফারুক (২৫)। মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘাতক স্বামীকে গ্রফতার করেছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে স্ত্রী রাশেদা বেগম (২১) বাথরুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে স্বামী ওমর ফারুক পিছন দিক থেকে ধারালো দা দিয়ে তার ঘাড়ে সজোরে কোপ দেয়। এতে স্ত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর ওই দা দিয়ে তাকে গলা কেটে করে হত্যা করে ফারুক। পরে দা’ ধুয়ে ছাগলের ঘরে লুকিয়ে রাখে সে। পুলিশ জানায়, ওমর ফারুক স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

রামগড়ের উত্তর লামকুপাড়ার বাসিন্দা নিহত রাশেদার বাবা আবু সৈয়দ বলেন, প্রায় তিন বছর আগে মধ্যম বলিপাড়ার প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে রাশেদার বিয়ে হয়। ফারুক স্থানীয় সেনাইপুল বাজারের ফল ব্যবসায়ী। তাদের ২০ মাসের একটি পুত্র শিশু রয়েছে। গত ৬-৭ মাস থেকে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। স্ত্রীকে মারধর করায় কয়েক মাস আগে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থিতিতে শালিসও হয়। মঙ্গলবার রাতেও স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে ফারুকের ছোট ভাই করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর রাশেদা স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে ২৮ দিনের মত তাদের বাড়িতে ছিল। ১০-১২ দিন আগে রাশেদা স্বামী-সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যায়। অটোরিকশা চালক আবু সৈয়দ তার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার জন্য ঘাতক স্বামী ওমর ফারুকের ফাঁসির দাবি জানান।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বামীর রক্তমাখা লুঙ্গি ইত্যাদি আলামত জব্দ করা হয়। ওসি আরও বলেন, কৌশল হিসেবে ওমর ফারুককে পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে সে অকপটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, নিহত রাশেদা বেগমের পিতা আবু সৈয়দ বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।