দেশের ১৮ শতাংশ মানুষ কোনো সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেন না: গবেষণা তথ্য

২৭ই জুলাই, ২০২০ || ০৬:৩৫:২৮
25
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন রিপোর্ট:
দেশের ১৮ শতাংশ মানুষ সংবাদ জানান জন্য কোনো সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেন না বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। সাড়ে ১৩শ’ জনের উপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সংবাদমাধ্যম যারা ব্যবহার করেন না, তাদের ৪৩ শতাংশ মনে করেন তাদের সংবাদমাধ্যম ব্যবহারের সময় নেই এবং সাড়ে ১১ শতাংশ সংবাদমাধ্যমের উপর বিশ্বাস নেই।

সম্প্রতি সংবাদবোধ বিষয়ে ওই গবেষণাটি করেছে এমআরডিআই ও ইউনিসেফ।

সোমবার এক ভার্চুয়াল সভায় ‘নিউজ লিটারেসি ইন বাংলাদেশ: ন্যাশনাল সার্ভে’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল এবং সুপারিশ উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো: গোলাম রহমান, প্যানেল আলোচক হিসাবে ছিলেন সাবেক তথ্য কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সাদেকা হালিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতিআরা নাসরিন এবং চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান।

গবেষণায় আরো উঠে এসেছে, দেশের ২৪ শতাংশ মানুষের সংবাদবোধ ভালো, ৭৬ শতাংশের সংবাদবোধ কম। বয়স্কদের চেয়ে তরুণদের মধ্যে সংবাদবোধ বেশি। দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ ফেক নিউজের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। তাছাড়া ফেক নিউজের প্রবণতা শহুরে এলাকার থেকে গ্রামীন এলাকায় বেশি বিস্তৃত। মানুষ সংবাদের জন্য টিভি বেশি ব্যবহার করেন আর সেই সংখ্যাটা নারীদের মধ্যে বেশি।

গবেষণায় বলা হয়, সংবাদবোধের মাধ্যমে মানুষ গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম নয় সেটার পার্থক্য করতে পারে। সংবাদবোধ বাড়ানোর জন্য তথ্য আরো বেশি সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে বলে তুলে ধরা হয় গবেষণায়। সংবাদবোধ বাড়ানোর জন্য ফ্রেমওয়ার্কও দরকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন গবেষক। তিনি বলেন, সে জন্য সরকার, এনজিও ও মিডিয়াকে একত্রে কাজ করতে হবে।

গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাদেকা হালিম বলেন, এখনও আমাদের দেশে গণমাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণ কম। কেন কম, সেদিকে নজর দিতে হবে। অনেকে নিউজ করতে গিয়ে হ্যারাসমেন্টের শিকার হন। সে জন্যও তারা ঝরে পড়েন।

ড. গীতিআরা নাসরিন বলেন, কোনটা সংবাদ এবং কোনটা সংবাদ না, সেটা সাংবাদিক ও সংবাদ ভোক্তার জন্য বোঝা জরুরি। আগে সংবাদ ও অসংবাদের মধ্যে একটা ভাগ ছিলো। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি বিকাশ ঘটায় সংবাদ ছড়িয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দ্রুত সংবাদ পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যাচ্ছেন। মানে অ্যাকিউরেসির থেকে স্পিড বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সে জন্য নিউজ লিটারেসির গুরুত্ব অনেক।

জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, গবেষণায় বলা হচ্ছে ২৪ শতাংশ মানুষের নিউজ লিটারেসি ভালো, ৭৬ শতাংশের নিউজ লিটারেসি কম। সাংবাদিকতায় আসতে হলে সাংবাদিকতার বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে, সেটা অনেক ক্ষেত্রেই উপকারী হবে। সঠিক তথ্য বোঝার জন্যও নিউজ লিটারেসি দরকার।

তিনি আরও যোগ করেন, নিউজ লিটারেসি শেখানো যেতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সে জন্য স্কুল থেকে এইচএসসি পর্যন্ত যেকোনো পাঠ্যক্রমে সংবাদবোধ শেখানো যেতে পারে। শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট দেওয়ার জন্যও সঠিক ও বেঠিক তথ্যর পার্থক্য চেনানো জরুরি।

সবশেষে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো: গোলাম রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক সময় সংবাদের মূল্যায়ন হচ্ছে না। সংবাদ নির্মোহভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে দেখে ভুল তথ্যে প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সে জন্য এই সময়ে নিউজ লিটারেসি জানা খুব দরকার। সব কিছুই বদলাচ্ছে। প্রিন্ট মিডিয়াও এমন থাকবে না। তাই নতুন ফরমেটে কীভাবে কাজ করা যাবে, তা আমাদের ভাবতে হবে।