মাহমুদ দারবিশের ৬ টি কবিতা

২৮ই জুন, ২০২০ || ০৬:২৫:৩৬
6
Print Friendly, PDF & Email

কাজী মেহেদী হাসান, লিটারেচার ডেস্কঃ
মাহমুদ দারবিশ। ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি। কবির জন্ম, ১৯৪২ সালে ফিলিস্তিনের গালিলি প্রদেশের আল বিরওয়াহ গ্রামে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইলীদের আক্রমনের ফলে মাত্র ছয় বছর বয়সে সপরিবারে লেবাননের পথে রওয়ানা করেন, গভীর রাতে। পেছনে ফেলে যান উপত্যকার উপর সবুজ সুন্দর গ্রাম, শৈশবের সোনামাখা দিনগুলির স্মৃতি। সেই থেকে শুরু তার উন্মূল উদ্বাস্তু জীবনের। নিজের দেশেই ছিলেন রিফিউজি। আমৃত্যু কোথাও স্থির হতে পারেননি। স্থির হয়েছে কেবল তাঁর কবিতা, তাঁর প্রিয় দেশ, দেশের জন্য সংগ্রাম। আজ থাকছে তার ৫ টি কবিতা।

১. বেলকনির মতো উঁকি মেরে দেখি আমার ইচ্ছা

বেলকনির মতো উঁকি মেরে দেখি আমার ইচ্ছা

উঁকি মেরে দেখি সন্ধ্যায় রুটি ও পানির জন্য ডাকছে

আমার বন্ধুরা

উঁকি মেরে দেখি গাঙচিল, সিপাহীদের লরি ও সাঁজোয়ারা

এই ভূখণ্ডের অসংখ্য বৃক্ষ ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

উঁকি মেরে দেখি কানাডা থেকে হিজরতকারীর কুকুর দেড় বছর ধরে দৌড়াচ্ছে

আমি উঁকি মেরে দেখি তাবরিয়া থেকে সংগীতের দূর্গের উপর দিয়ে মিশরের দিকে ছুটে যাচ্ছে ‘আবু তাইয়িব মুতানাব্বি’র নাম।

উঁকি মেরে দেখি লোহার প্রাচীর ভেদ করে ঊর্ধ্বে উঠে যাচ্ছে

পারস্যের গোলাপ

বেলকনির মতো আমি উঁকি মেরে দেখি আমার ইচ্ছা

আমি উঁকি মেরে দেখি রাতকে পাহারা দিচ্ছে বৃক্ষরা

পাহারা দিচ্ছে ঐসব মানুষদের ঘুম যারা আমাকে দেখতে চায় মৃত…

আমি উঁকি মেরে দেখি বাতাস খুঁজে বেড়ায় নিজের ভেতর

বাতাসের দেশ…

আমি উঁকি মেরে দেখি পারস্য, রোমীয়, সুমেরীয় আর

নতুন নতুন শরণার্থী…

উঁকি মেরে দেখি তাগরার এক গরীব অসহায় নারীর হার

পিষে যাচ্ছে সুদর্শন সম্রাটের গাড়ির বহর…

আমি উঁকি মেরে দেখি বাদশার নিন্দায় পিষ্ট হুদহুদ পাখি

উঁকি মেরে দেখি প্রকৃতির আড়ালে

কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে… ছাইয়ে ভেতরে ঘটতে যাচ্ছে আরো কিছু

আমি উঁকি মেরে দেখি কোনো এক দূরের ভয়ে আতঙ্কিত আমার দেহ

বেলকনির মতো আমি উঁকি মেরে দেখি আমার ইচ্ছা

উঁকি মেরে দেখি আমার ভাষা দুদিন যেতেই অধরা হয়ে গেছে…

উঁকি মেরে দেখি এক নারী তার নিজের ভেতর রোদ পোহাচ্ছে

আমি উঁকি মেরে দেখি নবীদের শোভাযাত্রা

তারা নগ্নপায়ে জেরুজালেমের ঊর্ধ্বে উঠে যাচ্ছে

তাই আমার প্রশ্ন: এই আধুনিক যুগের আধুনিক নবী আছে কী



২. দূর থেকে আসছে আমার ছায়া

উঁকি মেরে দেখি পাথরের সিঁড়ির দিকে আমার কায়া পালিয়ে যাচ্ছে নিজের আত্মা ছেড়ে— আর নিয়ে যাচ্ছে আমার মায়ের রুমাল। বাতাসে কম্পন তুলছে আমার সেই কায়া: কী হতো যদি আমি শৈশবে ফিরে যেতাম। যদি ফিরে যেতাম হায় মা তোমার কাছে… আর তুমি ফিরে আসতে আমার কাছে

আমি উঁকি মেরে দেখি জলপাইয়ের দণ্ড নবী যাকারিয়াকে লুকিয়ে ফেলেছে।

আমি উঁকি মেরে দেখি সেই সব শব্দ যারা ‘লিসানুল আরব’ থেকে ছিটকে পড়েছে।

তবু অল্প কয়েকজন আসখিলিউসই শান্তির দরোজা খোলার জন্য যথেষ্ট

অ্যান্তনিওর একটি খুদে বার্তাই যথেষ্ট যুদ্ধ জ্বলে ওঠার জন্য

আমার হাতের ভিতরে নারীর একটি হাতই যথেষ্ট

যার সাথে আমি স্বাধীনতার কণ্ঠ মিলাই

এবং যেখানে দেহের ভেতর শুরু হয়ে যায়

নতুন জোয়ার-ভাটা।

বেলকনির মতো আমি উঁকি মেরে দেখি আমার ইচ্ছা

আমি উঁকি মেরে দেখি আমার ছায়া

ছুটে আসছে

দূর থেকে…

সুদূর থেকে…

মাহমুদ দারবিশ

৩. ধার

শুনে রাখো কবিতা হৃদয়ের রক্ত

রুটির লবণ

চোখের অশ্রু

লেখা হয় নখ দিয়ে

চোখের কোটর দিয়ে

খঞ্জর দিয়ে।

আর আমি তা

অয়েটিং রুমে

বাথরুমে

আস্তাবলে,

চাবুকের নিচে

হাতকড়ার নিচে

শিকলের সহিংসতায়

উচ্চারণ করি:

লক্ষ লক্ষ পাখি

আমার হৃদয়ের ডালপালায়

সৃষ্টি করছে যুদ্ধংদেহি সুর।

৪. ধারণ করো প্রজাপতির শক্তি

তুমিই বলবে— না এবং ভেঙ্গে ফেলবে শব্দ। টুকরা টুকরা করে দেবে মন্থর নদী। অভিশপ্ত করবে নোংরা সময়। অথচ তুমি লুকিয়ে থাকো অন্ধকারে।

কথার নাট্যমঞ্চকে না। ধৈর্যের সীমাগুলোকে না। সব অসম্ভবকে না।

তুমি আসবে তুমি যাবে নগরগুলোর ভেতর। এই অন্ধকারে তুমিই দেবে গ্রামগুলোর নাম। গরীবদের তুমি সাবধান করো ভাষা থেকে, কথার কৌশল থেকে, সংবাদ ওয়ালাদের থেকে এবং শীঘ্রই তুমি যাবে। নিশ্চয়ই তুমি যাবে। আর কবিতারা এই মহাসমুদ্রের পিছে পিছে, অতীতের পিছে পিছে খুলে দেবে কুয়াশার ভেদ এবং দেখবে যারা অলংকার থেকে, তবলা থেকে ঝরে পড়েছে সেই মুক্ত স্বাধীন প্রহরীরা আসবে। অচিরেই তারা আসবে।

তোমার সংগীতের জন্য ভেঙ্গে পড়ে কাঠুরিয়া, প্রেমিকা, পানির আকাশ।

ভূপৃষ্ঠজুড়ে ভোরের উদ্বোধন ঘটে আর শব্দরা ক্রমাগত বিস্মৃত হয়ে চলতে চলতে

যুথবদ্ধ হয় সহস্র হত্যাকাণ্ডে। মৃত্যু আসে উজ্জ্বল হয়ে।

বৃষ্টি নামে প্রবল বর্ষণে। পরিষ্কার হয়ে ওঠে রিভলবার এবং নিহতরা।

এবং শহীদেরা আসবে সেইসব প্রাচীর ভেদ করে যা তোমাকে নিক্ষেপ করেছিলো শেষবিন্দুতে। তারা অধিষ্ঠিত হবে তোমার মাথায় রক্তের মুকুট হয়ে এবং তোমার স্মৃতির বাহিরে আপেলের চাষাবাদ হয়ে বারবার তারা আসবে পিছু পিছু।

তোমার কাছে আসে দরিদ্র মানুষেরা। অথচ তোমার কাছে রুটি নেই। নেই কোনো  দোআ যা গমগুলোকে শুষ্কতার হুমকি থেকে রক্ষা করে। তুমি তাদেরকে শুনিয়ে দেবে সেই দ্রোহের কথা, যা গমশীষের তরবারিগুলোর উপর ছড়িয়ে পড়বে। তুমি তাদেরকে শুনিয়ে দেবে সেই নদীর কথা যা লুকিয়ে আছে শরতের দেশ থেকে আসা নারীদের পোশাকের ভেতর। এরপর দেখবে তারা কেবলি হাসতে হাসতে চলে যাবে আর মুক্ত রেখে যাবে শস্যজমিগুলোর যাবতীয় প্রার্থনার দরোজা।

তোমার সংগীতের জন্য প্রেমিকাদের চোখ খুলে গেছে। হ্যাঁ তুমি অবশ্যই গমের থোকার নাম দেবে মাতৃভূমি। হ্যাঁ তুমি এই ভূমির নাম দেবে মহাবিস্মৃতি। এরপর তুমি ঘুমিয়ে যাবে একাকী বিপুল বিশ্রামের ঘ্রাণে ঘ্রাণে আর তোমার হৃদয় হারিয়ে যাবে দীর্ঘ পথের কোলে।

শীঘ্রই এক ছাত্রী বলবে: কবিতায় লাভ কী? কবি তো এমন যিনি কেবল অক্ষরের ভেতর থেকে ফুল আর বারুদ বের করে আনেন। অথচ দেখুন শ্রমিকেরা দুটি যুদ্ধে ফুল আর বারুদের নিচে চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। বলুন, দিন দুপুরে, অন্ধকারে লাভ কী কবিতায়? তুমি বলবে, তুমি তো ভুল করছো, অচিরেই দেখবে খেজুর বৃক্ষ আমার ইজতিহাদের অপেক্ষা করছে। অতঃপর খেজুর বৃক্ষই তোমার প্রশ্ন ভেঙ্গে দেবে।

তোমার সংগীতের জন্য শুভ্রতার পথগুলো আর ঘাতকের তীক্ষ্ম দক্ষতা আরো বেড়ে গেছে।

তুমি আসো সারাক্ষণ আত্মত্যাগের মতো অতঃপর তারা শোককে দেখে পোশাকের মতো

তুমি আসো সারাক্ষণ বিস্ফোরণের মতো অতঃপর তারা গোলাপকে দেখে মানচিত্রের মতো

নিশ্চয়ই তুমি আসবে যখন চলে যাবে অতঃপর তুমি আসবে যখন তুমি চলে যাবে। অতঃপর মিলনের ব্যবধান হবে অনেক দূর।

তুমি হবে আগুনের ঈগল। আর স্বদেশ হবে তোমার সুরমা রাঙা আকাশ।

বলো, হে আমার জাতি আমি কি তোমাদের সাথে কোনো ভুল করেছি?

রক্তাক্ত পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে ঈগলের ডানায়। ডানা পুড়ে যাবে পৃথিবীর উত্তাপে।

তুমি উঠে যাবে ঊর্ধ্বে। অতঃপর নামবে। অতঃপর উঠে যাবে ঊর্ধ্বে। অতঃপর প্রবেশ করবে বিপুল গতির ভেতর।

শুরুতেই তুমি ‘আমি কি তোমার সাথে কোনো ভুল করেছি হে সময়?’র স্বীকারকে অতিক্রম করে যাবে। তুমি গান করো শুকনো দুটি হাতের মাঝে বিস্তৃত সবুজের: প্রবেশ করবে আর চিৎকার করবে: এটা কীসের স্তূপ? দেখবে রক্ত, হত্যা আর কারা হত্যা করেছে কালের দলিল বলে চিৎকার করে উঠবে?

তুমি একা একা মরছো। দেখবে নিশ্চয়ই সাগররা তোমাকে নূড়ির মতো একা রেখে যাবে তাদের উপকূলে। অচিরেই তোমার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে অফিস, প্রশাসন, কর্তৃপক্ষ, নেতৃবৃন্দ, নারী, সংগীত, নগরের সড়ক, ট্রেন, বিমানবন্দর। অচিরেই এই দেশ পালিয়ে যাবে তোমার সেই হাত থেকে যা সৃষ্টি করেছিল পাপিয়ার গানের জন্য একটি দেশ।

তুমি একা একা মরছো। নিশ্চয়ই তোমাকে ত্যাগ করে চলে যাবে সেইসব আগ্নেয়গিরি যারা তোমার মতোই রক্ততপ্ত গর্জন করতো। তোমাকে ত্যাগ করে চলে যাবে গণরক্তের ধাবমান উত্তেজনাগুলো। তোমাকে ছেড়ে যাবে সেই আনন্দ যা তোমাকে নিক্ষেপ করতো মাছেদের সামনে। তোমাকে বর্জন করবে সংগীত আর কারাবন্দীদের মাঝে পরষ্পরের বিনিময় ও জিজ্ঞাসারা এবং তোমাকে বর্জন করবে অশ্বের ডাক।

তোমার পরে শিগগির তারা কবর দেবে সুগন্ধী। তারা গোলাপকে পরাবে তোমার হাতকড়া।

তোমাকে শেষ করার পর তারা নিয়ন্ত্রণ করবে পরিত্যক্ত শিশির।

তোমাকে শেষ করার পর তারা আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে যাবতীয় শব্দ

তারা তোমার ত্বকের তৃণগুল্ম থেকে লুণ্ঠন করবে পানি।

তারা তোমাকে গ্যালিলির রুমালগুলো থেকে তাড়িয়ে দেবে।

তুমি বলে দাও: ভাষার নাট্যমঞ্চকে— না।

এই ধৈর্যের সীমাগুলোকে— না।

অসম্ভবকে— না।

৫. তুমিই কি সে জন?

তুমিই কি সে জন?

আমি দেখি কেবল এক নারী,

যে পায়নি কোন বিজ্ঞাপন,

কেউ একজন অনুসরণ করছে আমার পদচিহ্ন, আমি নিজেকে দেখি চিত্রে খচিত, বহুধাবিভক্ত, তাড়িয়ে ফিরি স্মৃতি থেকে স্বজ্ঞায়।

পেতলের তরণীতে, আমাকে অন্ধ করে দেয় পথ চেনার আলো,

এমনকি যখন আলোকিত হয় বৃক্ষচূড়াগুলো,

তাদের অন্ধকার হৃদয়, আর আমি বিলিয়মান সুগন্ধির মতোই অস্পৃশ্য,

এক ভবঘুরে দমকা হাওয়া, যাকে আর স্মরণে আনছে না কেউ।

তিনি এক মহান বাদশা,

তিনি এক মহান বাদশা বটে,

কাস্তের শব্দ যিনি গিলে গিলে খান, আর নিঃশব্দে বৃক্ষের শেকড়ে করাত চালান।

পতঙ্গপাল তো উপেক্ষা করে সেই রমণীকে, যে পুড়িয়ে ফেলে তার আপন ইতিহাস,

আর যখন সে নবরুপে জন্মায়

যে কেউ আলোময় করে তার অতীত, ভবিষ্যতকে রেখে দেয় বহ্নিশিখায়।

এমন এক অনল, যা জ্বালায় না তরণী, আর হৃদয়েও ফেলে না কোন দাগ!

৬. ফিলিস্তিনি ক্ষতের দিনলিপি

আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে নাঃ কার্মেল পাহাড় রয়েছে আমাদের মাঝেই,

আর আঁখিপল্লবে গালিলির তৃণভূমি।

এমনটা বলো নাঃ যদি ছুটে যেতে পারতাম তার কাছে, নদী যেমন বয়ে যায়!

এমনও বলো নাঃ আমরা আর আমাদের এই দেশ একই অস্থিমজ্জা।

জুন মাসেও তো আমরা সদ্য পাখা গজানো ঘুঘু ছিলাম না যে, আটকে রাখলেই                             হৃদয়ে ভালবাসা মরে যাবে!

বোন আমার, শোন, এই বিশটি বছর তো আমরা কবিতা লিখে কাটাইনি! প্রাণপনে লড়ে গেছি।

তোমার চোখের উপর এই যে ছায়া পড়েছে, এটা ঈশ্বর নামধারী শয়তান এক

যে, গেল জুন মাসেই আস্তানা ছেড়ে বেড়িয়েছে

আমাদের মাথা চারদিকে সূর্য দিয়ে মুড়ে দেবে বলে।

ওর রং হল শহীদানের প্রার্থণার স্বাদ।

কী চমৎকার ভাবেইনা সে খুন করে, আর কী চমৎকারভাবে সে ফের বাঁচিয়ে তোলে

তোমার আঁখিপল্লবে সূচনা হয়েছিল যে রাত্রির,

আমার আত্মায় তা ছিল এক দীর্ঘ রজনীর সমাপ্তি।

অনাবৃষ্টির কাল পিছনে ফেলে

ফিরে যেতে হলে আমাদের প্রয়োজন পড়ে যাত্রাসঙ্গী।

আমরা তো জেনে গেছি দোয়েল কি করে শিস বাজায়, আর শত্রুর চোখে-মুখে ছুরি ঝিলকায়।

আমরা তো জেনে গেছি কীভাবে গোরস্থানের নির্জনতা পরিণত হয় ঝলমলে উৎসবে..এই জীবনের ফলোদ্যানে!

তুমি গেয়ে শুনিয়েছ তোমার গান, আর আমি দেখেছি ঝুলবারান্দা কেমন দেয়াল ছেড়ে পালায়, নগরচত্বর বেড়ে গিয়ে ঠেকে পাহাড় অবধি।

আমরা যা শুনেছি তা সুমধুর কোন সঙ্গীত ছিল না।

আর যা দেখেছি তাও ছিলনা কোন শব্দের বর্ণালি।

কক্ষের ভিতর ছিল কয়েক লক্ষ বীরপুরুষ!

শহীদের অস্থিমজ্জা গিলে ফেলেছে এই মাটি।

এই মাটিই দিয়েছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শস্যদানা ও তারকাপুঞ্জের।

অতএব তাকেই পুজা দাও,

আমরাই তো তার লবণ ও পানি, আমরাই তার শরীরের ক্ষত, যে ক্ষত লড়াই করে

বোন আমার শোন, কন্ঠ বুঁজে আসে কান্নায়,

এবং দৃষ্টিতে অগ্নিকণা,

আমি মুক্ত স্বাধীন!

নগর তোরণে আমি আর প্রতিবাদ করতে যাব না,

যারা মরে গেছে, আর যারা মরে যাবে দিবসের দ্বারপ্রান্তে, সকলে আলিঙ্গন করে আমায়, আমাকেই বানিয়ে তুলছে এক শানানো অস্ত্র!

ওহ্ -হো, আমার ক্ষতটা কোথায়, খুঁজে পাচ্ছি না;

আমার দেশ তো আর তল্পি-তল্পা নয়, আর আমিও নই কোন আগন্তুক, আমি একজন সাচ্চা প্রেমিক, আর এই ভূমি আমার প্রেমিকা।

প্রত্নতাত্ত্বিক ব্যস্ত রইল নুড়ি পরীক্ষায়।

কিংবদন্তির স্তুপের ভেতর খোঁজাখুঁজিতে নিজের চোখে সে দেখে নিতে চায়, এবং অন্যদেরকেও যেন দেখাতে পারে, যে আমি নিছক এক অন্ধ ভবঘুরে।

পথে পথে ঘুরি, আর বোম ফাটালেও একটি অক্ষর বেরোবে না সভ্যতার হাল-হাকিকত নিয়ে।

এরই মঝে কিছু সময় হাতে পেয়ে লাগিয়েছি কিছু বৃক্ষচারা, গান গাইছি প্রেমের।

ভালবাসি, আহা বড়ো ভালবাসি।

এসেছে সেই সময়, যখন আর কথা নয়, কাজ।

এসেছে সময় প্রমাণ করার – ভালবাসি এই মাটি, দোয়েলের গান।

এমনই এক কাল, অস্ত্রের ঝনঝনা গিলে খায় বংশীধ্বনি, আর আমি আয়নার বুক থেকে ক্রমশ অপসৃয়মাণ

কেননা আমার পিছনে গজিয়ে উঠছে অপর আরেক বৃক্ষ।