সাংবাদিক রুবেলের মানবতায় আলোড়ন

৯ই জুন, ২০২০ || ০৯:৫৮:৩৬
11
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
বোনকে সঙ্গে নিয়ে মুগদা হাসপাতালে করোনার টেস্ট করাতে আসেন এক তরুণ। প্রচণ্ড রোদে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান তিনি। করোনা আতঙ্কে কেউ তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।

এ সময় মানবতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ফটো সাংবাদিক রুবেল রশিদ ও সৌরভ লস্কর। গতকাল দুপুরে এই মানবতার দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার দুপুরেও ছবি তুলতে হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে চায়ে চুমুক দিতেই চোখ আটকে যায়। এক তরুণ করোনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে লাইনের পাশে রোদে পড়ে আছে।

তাকে সহায়তার জন্য কেউ এগিয়েও আসেনি। তাকে উদ্ধার করে মাথায় ও পায়ে পানি দেয়া হলো। কিছু পানি মুখেও দিলেন রুবেল। মুহূর্তেই চোখ মেলে তাকিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে কেঁদে ফেললো সে।কিছুক্ষণ পরই কথা হয় আল আমিন নামের ওই তরুণের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ভাই আমার কাছে আসবেন না। আমার করোনা পজিটিভ এসেছে। সাংবাদিক রুবেল বলে উঠলেন আল্লাহর রহমতে করোনাকে ভয় পাই না। সহযোগিতাই আমার নেশা।

ফটোসাংবাদিক রুবেল মানলেন না কোনো বাধা, তার কাছে ধরা দিলো মানবিকতা। সকল ভয়কে পাশ কাটিয়ে তরুণের পাশে চলে গেলেন তিনি। তাকে একটু পানি খাওয়ান রুবেল, ছেলেটি বেঁচে আছে। পানি খেতেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছেন।

এরপরই মাথায় পানি ঢালা হয়। তরুণ নিজেই জানায়, তার বোনের সঙ্গে এসেছেন করোনা পরীক্ষা করাতে। এই নিয়ে তিনি দুবার এসেছেন। পরীক্ষার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বোনও পাশ থেকে সরে যায়।

আল আমিন বলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তার চায়ের দোকান দিয়েই চলে তাদের সংসার। গত ১৫ দিন ধরেই তিনি সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। গত ১ জুন প্রথম করোনা পরীক্ষা করান। তাতে পজিটিভ এসেছে। এবার তার দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষা। তাই বোনকে সঙ্গে নিয়ে মুগদা হাসপাতালে নমুনা দিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান।

সংবাদকর্মী জীবন আমির বলেন, করোনা ভাইরাস কাউকে কাউকে কত অমানবিক বানিয়ে দেয়, এ ছবি তার প্রমাণ! ক্যাপশন ও খবর থেকে জানা গেলো, বড়বোন তার ছোট ভাইকে নিয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য এসেছিলেন মুগদা জেনারেল হাসপাতালে।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করেও পরীক্ষা করার সুযোগ পাননি। অতঃপর বোন তার ছোটভাইকে ফেলে রেখেই পালিয়ে যান। ছোট ভাই আল-আমীন জ্বরের ঘোরে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন একটু চিকিৎসার আশায়, একটু মায়া-মমতার আশায়।

সংবাদকর্মী রহমান মাসুম বলেন, আমার ভাবতে ভালো লাগছে হারুন উর রশীদ রুবেল আমার সাবেক সহকর্মী। অনুজপ্রতীম এ পাগলাটে ফটোসাংবাদিক অনেক অভিমানি ও আবেগী।

তার সঙ্গে বহুবছর এক হাউজে কাজ করেছি, বিভিন্ন নির্বাচন, হেফাজতি সন্ত্রাস, আগুন ও বোমাসন্ত্রাস, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ইস্যু, মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডসহ দেশের নানা প্রান্তে একসঙ্গে কাজ করেছি। সত্যি বলতে ও যে ছবি তোলে সে রিপোর্ট লেখাটাও কঠিন।

ওর জন্য আনন্দ হচ্ছে বলেই বলে ফেলি, সাংবাদিকতাটা জীবন ও মনকে এক করেই করতে হয়, এই পাঠ ওর হয়তো নেয়া হয়ে গেছে।

তাইতো কাজ শেষে মানবিক ডাকই তার কাছে প্রধান! ভালোবাসা রুবেল। সাংবাদিকতা কেবল একটা পেশা নয়, সমাজের প্রতি মানুষের দায়ও।