চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা লকডাউন তালিকায়

৭ই জুন, ২০২০ || ০২:৪৭:৩৯
29
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা থেকে করসপন্ডেন্ট:
দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আক্রান্তের আধিক্য বিবেচনায় রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়ন হবে স্বাস্থ্যবিধি ও আইনি পদক্ষেপ।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ কথা জানানোর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েবসাইট করোনা ইনফোতে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রিন জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি।

এর মধ্যে খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা, মেহেরপুর, নড়াইল ও সাতক্ষীরাকে পুরোপুরি লকডাউন দেখানো হয়েছে। এই বিভাগে আংশিক লকডাউন দেখানো হয়েছে বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও মাগুরাক জেলাকে। খুলনা বিভাগেই দেশের একমাত্র গ্রিন জোন চিহ্নিত জেলা রয়েছে ঝিনাইদহ, অর্থাৎ এটি লকডাউন নয়।

তবে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ও খোকসা থানাকে সম্পূর্ণ লকডাউন, ভেড়ামারা ও কুমারখালীকে আংশিক লকডাউন এবং কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুরকে লকডাউন নয় দেখানো হয়েছে। বাগেরহাটের শুধুমাত্র চিতলমারী উপজেলাকে আংশিক লকডাউন দেখানো হলেও বাকি উপজেলাগুলোকে লকডাউন নয় দেখানো হয়েছে। মাগুরার শুধুমাত্র মোহাম্মদপুর উপজেলাকে আংশিক লকডাউন ও বাকি উপজেলাগুলোকে লকডাউন নয় দেখানো হয়েছে।

এবিষয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনরা যে ভাবে পরামর্শ দিবেন জেলা প্রশাসকরা সেভাবে কাজ করবেন। জেলার সংক্রমণের মাত্রা উপর নির্ভর করে সিভিল সার্জনরা নানা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগ করেন জেলা প্রশাসকরা তা বাস্তবায়ন করে থাকেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) থেকেই কিছু জায়গায় জোনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে লকডাউন শুরু হচ্ছে। বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা সংক্রমণমুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করা হবে। গ্রিন জোনে সতর্কতা এবং ইয়েলো জোনে সংক্রমণ যেন আর না বাড়ে সেজন্য পদক্ষেপ থাকলেও রেড জোনে করোনার বিশেষ গাইডলাইন অনুযায়ী কঠোর হবে পুলিশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৬ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৩৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৪৬ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায়ই মারা গেছেন ৩৫ জন।