দেশের প্রথম রেড জোন কক্সবাজারের ১০ ওয়ার্ড লকডাউন

৫ই জুন, ২০২০ || ০৬:৫৮:৩৯
12
Print Friendly, PDF & Email

কক্সবাজার থেকে করসপন্ডেন্ট:
করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার শহরের ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টিকে রেড জোন ও দুটিকে ইয়োলো জোন ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (০৫ জুন) থেকেই এ ঘোষণা কার্যকর হচ্ছে।করোনা আক্রান্ত ও প্রাদুর্ভাবের দিক দিয়ে কক্সবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পৌর এলাকাসহ জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল শনিবার থেকে ১৪ দিনের জন্য কঠোরভাবে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলায় এ পর্যন্ত ৮৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১৮ জন। একজন রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও করোনা সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটির আহবায়ক শরাফুল আফসারের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলাকে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে ইউনিয়নভিত্তিক ও চারটি পৌরসভায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বিন্যাস করে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এসব এলাকায় শনিবার থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে। প্রয়োজন হলে পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সময় আরও বাড়ানো হবে। এসময়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। তাদেরকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও মাহমুদ উল্লাহ মারুফ পরিচয়পত্র ইস্যু করবেন।

এদিকে সপ্তাহে শুধু রোববার ও বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে খুব অল্প সময়ের জন্য কাঁচাবাজার ও প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দোকান খোলা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণে মাঠে থাকবে জেলা প্রশাসন। পৌর এলাকার ব্যাংকগুলো রোববার ও বৃহস্পতিবার অল্প সময়ের জন্য খোলা হবে। কোনও প্রকার গাড়ি লিংক রোড থেকে পশ্চিম দিকে শহরে আসতে পারবে না। শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও প্রবেশ করতে পারবে না। লিংক রোড থেকেই সব গাড়ি ছেড়ে যাবে এবং সেখানে এসে থামবে। কক্সবাজারে কর্মরত এনজিও কর্মকর্তারা এবং তাদের কোনও গাড়ি লিংক রোড থেকে পশ্চিমে শহরে আসতে পারবে না। লিংক রোডে গাড়ি রেখে তাদের অফিস করতে হবে। কক্সবাজার জেলার বাইরের কোনও লোককে এই ২ সপ্তাহ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গণমাধ্যমকর্মী, সংবাদ সংগ্রহকারী, ক্যামেরাম্যান ও সংশ্লিষ্টদের কক্সবাজার প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ থেকে ইস্যু করা পরিচয়পত্র নিয়ে চলাচল করতে হবে।

কক্সবাজার প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র নিয়ে গণমাধ্যমের লোকজন সংবাদ সংগ্রহ ও ভিজিলেন্স টিমের সঙ্গে থাকতে পারবে। শহরের মসজিদগুলোতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত সংখ্যার বেশি মুসল্লি জামাতে অংশ নিতে ও মসজিদে যেতে পারবে না। কর্তৃপক্ষের এসব নির্দেশনার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও এবং কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ শুক্রবার পুরো কক্সবাজার শহরে মাইকিং করেছে।

অবরুদ্ধের সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলে তাদেরকে আইনে আওতায় আনা হবে বলেও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।