২৪ ঘণ্টায় পুলিশে করোনায় আক্রান্তের রেকর্ড ৩২৪ জন

৪ই জুন, ২০২০ || ০৪:৩০:৪৮
13
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একদিনে নতুন করে বাংলাদেশ পুলিশের আরও ৩২৪ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এটিই পুলিশ বাহিনীতে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলার এই বাহিনীতে মোট ৫ হাজার ৮৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল এই সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৫০৭। সংক্রমণের শুরু থেকে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে পুলিশে আক্রান্তের বিষয়ে আপডেট করা তথ্য থেকে এসব জানা গেছে। এর আগে গত ১৬ মে একদিনে পুলিশ বাহিনীতে সর্বোচ্চ ২৪১ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

পুলিশ সদরদফতর ও ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চলমান করোনাযুদ্ধে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত ও সংযুক্ত মোট ১৭ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। যার মধ্যে ১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা বাকি দুজন সিভিল কর্মকর্তা যারা পুলিশে সংযুক্ত ছিলেন।

করোনায় আক্রান্ত পুলিশের সদস্যদের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক হাজার ৭৭৭ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ২ হাজার ১২২ জন পুলিশ সদস্য করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছেন।

এ পর্যন্ত পুলিশের মোট এক হাজার ৬৪০ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। সিনিয়র অফিসাররাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষা সামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহে এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।’

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত পুলিশদের জন্য সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করাসহ সব পুলিশ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে।

এদিকে, মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জন মারা গেছেন। ফলে করোনায় মোট মারা গেলেন ৭৮১ জন। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪২৩ জন। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৭ হাজার ৫৬৩ জনে।