কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যাকাণ্ড: বিক্ষোভ দমনে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

২ই জুন, ২০২০ || ০৭:১০:১৯
16
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভয়াবহ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ঠিক সেই মুহূর্তে বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (১ মে) হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের সামনে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসাবে আমার প্রথম এবং সর্বোচ্চ দায়িত্ব হ’ল আমাদের মহান দেশ এবং আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা। তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের দেশের আইন বহাল রাখার শপথ নিয়েছিলাম এবং আমি এটাই করব।

তিনি বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুমকি দিয়ে বলেন, “এগুলি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কাজ নয়। দাঙ্গা, লুটপাট, ভাঙচুর, হামলা এবং ইচ্ছামত সম্পদ ধ্বংস এবং আইন মেনে চলা আমেরিকানদের অধিকার রক্ষার জন্য ফেডারেল রিসোর্স, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীকে একত্রিত করবো।

তিনি আরও বলেন, আমি দাঙ্গা, লুটপাট, ভাঙচুর, হামলা এবং সম্পত্তির অযৌক্তিক ধ্বংস বন্ধ করতে হাজার হাজার ভারী সশস্ত্র সেনা, সামরিক কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পাঠাচ্ছি। ট্রাম্প বলেন, আজ রাতে কারফিউটি “কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে”। যে কোনও নিয়ম ভঙ্গকারীকে আইনের পুরোপুরি গ্রেপ্তার করা হবে, আটক করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। যে কোন উপায়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা এবং অনাচারের অবসান ঘটাবো।”

এছাড়া জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু বৃথা যাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ফ্লুয়েডের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তা এই বিক্ষোভের কারণে মানুষ ভুলে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনোপোলিসে একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সোমবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন প্রতারণার অভিযোগে ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে হত্যা করে তাকে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’

এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় মুহূর্তেই। এরপর প্রথম দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও এখন অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তুমুল ধ্বংসলীলার মাধ্যমে তা সহিংস রূপ নিয়েছে।