‘এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই, দ্বিতীয় স্ত্রী আমি’

১ই জুন, ২০২০ || ০৬:৪৯:৫১
112
Print Friendly, PDF & Email
  • অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট:
  • রাজশাহীর এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ভ্রুণ হত্যার অভিযোগও এনেছেন আয়েশা আক্তার লিজা নামের ওই নারী।

কয়েকদিন ধরে রাজশাহী-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে গোপনে বিয়ে করে প্রতারণা ও অনাগত সন্তান হত্যার অভিযোগ করেছেন আয়েশা আক্তার লিজা নামের এক নারী। এসব অভিযোগ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি।

তবে সাংসদ এনামুলের দাবি, ওই নারীর চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। পরে আইন অনুযায়ী তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে ওই নারী ফেসবুকে লিখেছেন, “আপনারা সবাই ভাবছেন আমি থেমে গেছি। আমি থেমে যাই নাই সংসদ সদস্যের ভক্তরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে দেওয়া হবে এমন বলছেন। এবং মাননীয় সংসদ সদস্য গতকাল আমাকে বলেছেন, আমি গণমাধ্যমে এসেছি তাই আমাকে আজ উনি ডিভোর্স দিবেন। সব মিলিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তবে আমি থেমে নেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর কাছে যাবো এবং এর বিচার চাইবো। আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকেছেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী নারীর বাড়ি রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায়।

শনিবার (৩০ মে) দেওয়া আরেকটি ফেসবুকে পোস্টে ওই নারী বলেন, “এমপি সাহেবের রক্ষিতা বা প্রেমিকা নই দ্বিতীয় বউ আমি।”

লিজা নামে ওই নারী দাবি করেন, “২০১৮ সালের ১১ মে এনামুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে আট বছর আগে ‘মৌখিকভাবে’ তারা বিয়ে করেছিলেন। তবে গত দুই বছর ধরে এনামুল তাকে গোপনে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একটি ভুয়া কাগজ করে তিনি আমাকে তালাক দিয়েছেন। সেখানে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ কারণে আমি পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমি ফেসবুকে এসব কথা বলেছি। আমি আমার সংসার করতে চাই আমার স্বামীর সঙ্গে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি এনামুল হক বলেন, ‍“একসময় ওই নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের সম্পর্ক ছিল, এখন নেই। তাকে সম্পূর্ণ দেনমোহর পরিশোধ করেছি আমি। কিন্তু তারপরেও সে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। আমিও আইনের আশ্রয় নেব।”

ভ্রুণ হত্যার অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ এনামুল হক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছেন, ‘‘বিয়েই করেছি ২০১৮ সালে। ২০১৫ সালে কোথা থেকে বাচ্চা এলো? কার বাচ্চা কোথায় থেকে এনে হত্যা করেছে, তার দায় আমার ঘাড়ে চাপাবে নাকি? প্রয়োজন হলে কোর্টে যাবে। গত ২৪ এপ্রিল ডিভোর্স দিয়েছি। লকডাউনের কারণে হয়তো চিঠি পায়নি, পেয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নারী বলেন, এখনও তিনি আমাকে ডির্ভোস দেননি। এই ঈদেও তিনি আমাকে খরচ দিতে চেয়েছেন। স্বীকৃতি ও সন্তান নিতে চাওয়ায় গত দুই মাস ধরে আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল। তিনি আমাকে ভুয়া ডির্ভোসের কাগজ দেখাচ্ছেন।

বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বলেও জানান তিনি।