বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে নরওয়েতে বরফ গলে আবিষ্কৃত হলো প্রাচীন নিদর্শন

৩১ই মে, ২০২০ || ০১:৪৬:২৭
32
Print Friendly, PDF & Email

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে মানুষজনের মাথা ব্যথার শেষ নেই। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন আতংকের সংবাদ। তবে এরপরেও আমরা এ সম্পর্কে নতুন কিছু বিস্ময়কর তথ্য পেয়েছি। এটাকে কি বৈশ্বিক উষ্ণয়নের পজেটিভ সাইড এফেক্ট বলা যায়?

নরওয়ে তে বরফ গলার ফলে লৌহযুগ বা মধ্যযুগের একটা পাহাড়ের খাত পাওয়া গেছে যেটা প্রায় অক্ষত প্রত্নসামগ্রীতে পরিপূর্ণ। এটা নতুন নয় যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলে খুব দ্রুত বরফ গলছে। আবার, পাহাড়ের বরফ এবং গ্লেসিয়ার আমাদের পৃথিবীর অতীতকে সংরক্ষণ করে রাখে। আর সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে তাদের গবেষণা প্রকাশ করেছেন।

৩০০-১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়ের শিল্পকলার নিদর্শন স্বরূপ কিছু গুপ্তধন পাওয়া গেছে স্ক্যান্ডেনেভিয়াতে। যেসব শিল্পকর্মের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে!

নরওয়ের রাজধানী অসলো শহরের ২০০ মাইল উত্তরে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পার্মাফ্রস্ট গলা শুরু করেছে। আর এখানেই গ্লেসিয়াল আর্কিওলজি তার খেল দেখাতে সক্ষম হয়েছে। বলে রাখা ভাল যে, এটি আর্কিওলজির এমন একটি শাখা যেখানে এমন সব দিক নিয়ে কাজ করা হয় যা এক সময় বরফের নিচে ঢাকা ছিল এবং খুব সম্প্রতি গলতে শুরু করেছে। এর মাধ্যমে পুরোনো সভ্যতার তথ্য গুলো খুঁজে বের করা যায়।

মধ্য নরওয়েতে, প্রায় ৩০০০ এর উপর আর্টিফেক্ট পাওয়া গেছে একেবারে অক্ষত অবস্থায়। এদের ভেতর আছে টেক্সটাইল উপকরণ এবং কাপড়, প্রাণির হাড় এবং শিকার করার যন্ত্রপাতি। সাধারন আর্কিওলজিকাল আর্টিফেক্টগুলো অনেকসময়ই প্রায় ধ্বংসের পর্যায়ে থাকে। কারন অধিকাংশ জিনিস তৈরি হয় জৈব পদার্থ দিয়ে এবং মাটির নিচে সাধারণত সংরক্ষণের কোন উপায় থাকে না।

কিন্তু বরফের ভেতর এসব আর্টিফেক্ট খুবই ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই টিকে থাকে। পুরাকালের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভাল উপায় হল সেই সব জিনিস পত্র নিয়ে স্টাডি করা যা তাদের জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

২০১১ সালে নরওয়ের লেডব্রেনে আবিষ্কার হওয়া জিনিসপত্র ভাইকিংদের সময়ের একটি পাহাড়ি খাত শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই আর্টিফেক্টগুলো সাক্ষ্য দেয় কি করে ভাইকিংরা সংঘবদ্ধ ভাবে স্ক্যান্ডেভিয়ান রিজিয়নে চলাফেরা করত।

লেডব্রেন প্রসঙ্গে একটু আলোকপাত না করলেই নয়। এই জায়গাটিতে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি আর্টিফেক্ট পাওয়া গিয়েছিলো। টিউনিক থেকে শুরু করে উলের তৈরি সামগ্রী, চামড়ার জুতা, তীর ধনুক কি পাওয়া যায়নি সেখানে! এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, তীরের মাথার পালকটি পর্যন্ত অক্ষত আছে, প্রকৃতির এমন সংরক্ষন সত্যিই আশ্চর্যজনক।

আবার পাথরের গায়ে চিহ্ন দেখে বোঝা যায় এই পথটি ব্যবসায়ীদের কাজে ব্যবহার হত। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই লেডব্রেনের সেইগিরিখাত নর্থ সেন্ট্রাল নরওয়ে সহ সারা দেশের ভাইকিং নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। গবেষণা আরো দেখায় যে, এই খাতটি ৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো।

পৃথিবী ক্রমেই উষ্ণ হচ্ছে আর বরফ ক্রমাগত গলছেই। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, গ্লেসিয়াল আর্কিওলজির আরো অনেক আবিষ্কার বরফের নিচে চাপা থাকা না বলা গল্পগুলো সবার সামনে নিয়ে আসবে।