হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদ্রাসা), রাজধানীর উপকণ্ঠে এক আলোর ফেরিওয়ালা (ভিডিও)

৪ই মে, ২০২০ || ১২:৫৫:৩১
282
হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদ্রাসা), রাজধানীর উপকণ্ঠে দ্বীন ইসলাম প্রসারের আলোকিত প্রতিষ্ঠান
Print Friendly, PDF & Email

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকা:
পবিত্র নগরী মক্কার হেরা পর্বতের গুহা থেকে যে ঐশ্বি জ্ঞানের আলোক ধারা প্রবাহিত হওয়া শুরু হয়েছিল কোন সে অদৃশ্য জীবন কাঠিতে মৃতপ্রায় বিশ্ব মানবতাকে জাগিয়ে তুলেছে। আলোকিত করেছে শতকোটি হৃদয়। গড়ে তুলেছে অপূর্ব সভ্যতা। যারা ছিল অন্ধকারে জীবন্ত তাদেরকে আলোর ফেরিওয়ালা বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বময়। হেরা গুহা থেকে যে ঐশ্বিক জ্ঞানের আলোক প্রবাহ শুরু হয়েছিল তারই একটি অসাধারণ গতিশীল ধারা হচ্ছে রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ ফোর্ডনগর, ধল্লা, সিংগাইর মানিকগঞ্জ- এ অবস্থিত ব্যতিক্রমী দ্বীন ইসলামের আলো ছড়ানোর আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদরাসা)।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আলিমে দ্বীন হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে ২০১৩ সনে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষায় যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে এই একাডেমির প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বীনের এ কঠিন কাজে অর্থনৈতিক দিকসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও তাঁকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। জনকল্যাণে ও সমাজসংস্করনে নিবেদিত একাডেমীটি শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও জাগতিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও কাজ করে যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে হলেও আধুনিক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের ধল্লা-সিংগাইর-ফোর্ডনগরের পশ্চাৎপদ এই জনগোষ্ঠির মুলপ্রতিবন্ধকতা শিক্ষার চরম দৈন্যতা দেখে বিনয়ী ও অমায়িক আচরনের হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদীর হৃদয় আন্দোলিত হয়। ২০১০ সালে প্রথম মাকে সাথে নিয়ে পিছিয়ে পড়া এই জনপদে প্রথম পদার্পন করেছিলেন তিনি। এই এলাকায় একটি প্রতিশ্রুতিশীল দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীতার কথা তিনি তখন থেকেই গভীরভাবে অনুভব করেন। এরপর ২০১২ সালে চাচা আনোয়ারুল বশির খানকে সাথে নিয়ে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেষ্টারে তার প্রিয় শায়েখ হযরত মাওলানা বেলাল বাওয়া দা.বা. (শায়খুল হাদিস দারুল উলুম বেরি) কে তার স্বপ্নের কথা জানালে সুপরামর্শলাভ করেন।

দ্বীনি খেদমতের সুমহান উদ্দেশ্যে সমাজের অবহেলিত মানুষকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং দ্বীনের প্রচার ও প্রসারকে প্রাধান্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা। শুরুতে মাত্র ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে এই মোবারক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পদযাত্রা শুরু হয়। কিন্ত মাত্র কয়েক বছরেই এটি এখন দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী এবং ১৭ জন সুদক্ষ শিক্ষককের আলোয় আজ আলোকিত এক প্রতিষ্ঠান। সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিয়ে কুসংস্কার মুক্ত রেখে ইসলামী ও আধ্যাত্মিক শিক্ষায় যুক্ত করে ধর্ম প্রচারেও অনন্য অবদান রাখছে এটি। শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষায় যোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এখানে। পশ্চাৎপদ এই জনগোষ্ঠীর ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে একাডেমীর পক্ষ হতে “সাপ্তাহিক ইসলাহী মজলিস” এর আয়োজন করা হয়। যেখানে তাদের প্রাথমিক ইসলামী জ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়। যার ফলে এলাকাবাসির মধ্যেও এক আমূল পরিবর্তন এসেছে।

দ্বীনি খেদমতকে দায়িত্ব হিসেবে গ্রহন করে পথহারা মানুষকে সঠিক পথের সন্ধানদানের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদী ছিলেন ধ্যানমগ্ন। সমাজের অবহেলিত মানুষকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং দ্বীনের প্রচার ও প্রসারকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি এ একাডেমী প্রতিষ্ঠায়। হাফেয সাদী খানের বিনয়ী ও অমায়িক আচরন এবং আধ্যাত্মিকতার সম্পুরন ও হৃদয়গ্রাহী ওয়াজ নসিহতের কারনে তিনি আল্লাহ্‌র পথের মহান পথ প্রদর্শক। অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে দাওয়াতী কাজ করে হেদায়েতের কাজ করাও ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য।

দ্বীন ইসলামী, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সংস্কারে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করেছে ব্যতিক্রমী হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদরাসা)।

সিংগাইর-মানিকগঞ্জ এলাকায় যাত্রা শুরুর মাধ্যমে ইসলামী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সংস্কারে ইতোমধ্যেই ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করেছে হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদরাসা)। ব্যতিক্রমী এই একাডেমির অধীনে একটি স্বতন্ত্র এতিমখানাও রয়েছে। যেখানে সাধারণ অনুদান ও গোরাবা তহবিলে যাকাত, ফিতরা, সদকা, ইত্যাদি দান এবং সাহায্য গ্রহণ করা হয়।

ছায়াঢাকা পাখিডাকা শান্তিময় ও মনোরম পরিবেশের সেইদিনের সে ছোট্র প্রতিষ্ঠানটি আজ উজ্জল আলোয় উদ্ভাসিত করছে চারিপাশ। শিক্ষা কার্যক্রম ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে পুরুষ ও মহিলা শাখা মিলে হিফজুল কুরআন, মক্তব ও কিতাব বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থী ১৭ জন সুদক্ষ শিক্ষককের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়নরত রয়েছে।

ব্যতিক্রমী এই একাডেমীর গোড়াপত্তনে পেছনের ইতিহাস জানান বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন, শিক্ষাবিদ ও গবেষক হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদী। বলেন, তার প্রিয় শায়খ হযরত মাওলানা বেলাল বাওয়া দা.বা. এর সুপরামর্শে চাচা আনোয়ারুল বশির খানকে সাথে নিয়ে ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর (১১ই শাওয়াল ১৪৩৪ হি. বুধবার) একাডেমীর প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে বিশিষ্ট সাহাবী ও মুয়াজ্জিনে রাসূল (সা.) হযরত বেলাল রা. এর নামানুসারেই নামকরণ করেন প্রতিষ্ঠানটির। প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে তিনি নিজেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার পিতা মরহুম আনোয়ারুল আজীম খান, জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা মোস্তফা আজাদ, আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মোমিনপুর মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা রাশেদ মুহসিন, আব্দুস সোবহান (ইউকে) সহ অনেকেই এ অসাধারণ মহতী উদ্যোগের সঙ্গে থেকে স্বাগত জানান। এছাড়া মাদরাসা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বেলাল একাডেমী মাদ্রাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান।

প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদীর ফেসবুক পোষ্ট।

পশ্চাৎপদ এই জনগোষ্ঠীর ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে একাডেমীর পক্ষ থেকে নানা আয়োজন রয়েছে। যেখানে প্রাথমিক ইসলামী জ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়। যার ফলে এলাকাবাসির মধ্যে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়। এলাকার সিংহভাগ মানুষ যারা শুদ্ধরূপে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে সক্ষম ছিলনা, ইসলামী শিক্ষা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিল, বিভিন্ন ধরনের বিদআত ও অনৈসলামিক ও অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল, একাডেমীর কল্যাণে তারাও এখন সহিহ শুদ্ধরূপে কুরআন তেলাওয়াত শিখছে। সঠিক ইসলামের পরশে ধন্য হচ্ছে এবং অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য। এর পাশাপাশি এলাকার বয়স্ক মহিলাদের কুরআন তেলাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষার জন্য একাডেমীর মহিলা শাখায় বৈকালিন কোর্সেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক কথায় হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদ্রাসা) শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও জাগতিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শামসুল আরিফিন খান (সাদী) জানান, আল্লাহর অশেষ মেহেবানীতে যাদের পদার্পণে হযরত বেলাল রা. একাডেমী (মাদ্রাসা) ধন্য, তাদের কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন, হযরত মাওলানা আব্দুল হাফিজ মাক্কী রহ. (বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, মক্কা মুকাররামাহ), হযরত মাওলানা বেলাল বাওয়া দা.বা. (শায়খুল হাদীস, বেরী দারুল উলূম, ইউকে), আওলাদে রাসূল হযরত মাওলানা আরশাদ মাদানী দা.বা. (সিনিয়র মুহাদ্দিস, দারুল উলূম দেওবন্দ), আওলাদে রাসূল হযরত মাওলানা আসজাদ মাদানী (চেয়ারম্যান, মাদানী ফাউন্ডেশন, ভারত), হযরত মাওলানা আশরাফ মাখদুম (চেয়ারম্যান, লিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, ইউকে), হযরত মাওলানা ইমতিয়ায পাটেল (মসজিদে আলী, ইউকে), হযরত মাওলানা হাসান আলী (বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তবিদ, ইউকে), খালিদ চৌধুরী (বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, ইউকে), সুলতান মাসুদ খান (জাস্টিস অফ পিস, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া) সহ প্রমুখ।

বেলাল (রা‌.) একাডেমির কল্যাণে পশ্চাৎপদ এই জনপদ ও জনগোষ্ঠীর ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে এলাকাবাসির মধ্যে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্যনীয়।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে হযরত বেলাল (রা‌.) একাডেমির অধীন স্বতন্ত্র এতিমখানার জন্য সাধারণ অনুদান ও গোরাবা তহবিলে যাকাত, ফিতরা, সদকা, ইত্যাদি দান বিষয়ে সাহায্য-সহায়তা কামনা করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শামসুল আরিফিন খান (সাদী)। বলেন, বৈশ্বিক মহামারি দূর্যোগের মধ্যেই আলহামদুলিল্লাহ পবিত্র মাহে রমজান আমাদের মাঝে এসে উপস্থিত হয়েছে। দোয়া করি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ মাসের উসিলায় আমাদের সকলের পরিবার-পরিজনের উপর তার অপরিসীম করুণা ও রহমত বর্ষণ করে বালামুসিবত থেকে হেফাজত করুন। রমজান মাসে আল্লাহর রাস্তায় যা দান করা হয়, দয়াময় আল্লাহ তাঁর অশেষ কৃপায় এর প্রতিদান বহুগুন বৃদ্ধি করে দেন। যেহেতু বেলাল (রা‌.) একাডেমির অধীনে একটি স্বতন্ত্র এতিমখানাও রয়েছে। আর একাডেমির মাসিক গড় ব্যয় প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। তাই এ একাডেমিতে বিশেষ এ সময়ে সাহায্য-সহযোগিতা করলে অশেষ নেকী হাসিল করা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ
ব্যাংক একাউন্ট নং:
4002-784861-000
বেলাল একাডেমি,
এবি ব্যাংক লি:
কাওরান বাজার, ঢাকা

ব্যাংক একাউন্ট নং:
0200012176514
হযরত বেলাল একাডেমী,
অগ্রণী ব্যাংক লিঃ,
বাস্তা বাসষ্ট্যান্ড শাখা,
মানিকগঞ্জ।
এবং
বিকাশ নম্বর:
01789379531

অর্থনৈতিক দিকসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও হযরত বেলাল (রা‌.) একাডেমি পরিচালনায় কখনো পিছপা হননি এর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেয মাওলানা শামসুল আরিফিন খান সাদী। তাঁর দূরদর্শীতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে একাডেমির অগ্রযাত্রা। এই অসাধারণ কার্যক্রম অব্যহত গতিতে এগিয়ে চলুক। গড়ে উঠুক আলোকিত ভবিষ্যৎ। মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত হোক হৃদয় থেকে হৃদয়।