বাসের টিকিট বিক্রি শুরু

16
Print Friendly, PDF & Email

সেহরি সেরেই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন মোহাম্মদ মুকতানূর। চলে আসেন গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে। এত ভোরে এসেও দেখেন, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন হাজারো টিকিটপ্রত্যাশী। শুক্রবার ভোরে ঢাকার ওই বাস টার্মিনালে গিয়ে মুকতানূরের এ অভিজ্ঞতা হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার বাসের অগ্রিম টিকিট দেয়া হবে- বাস মালিক সমিতির এ ঘোষণায় তিনি সেখানে যান।

মুকতানূরের প্রয়োজন ৩ জুনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের দুটি টিকিট। গন্তব্য তার পঞ্চগড় জেলা। কিন্তু হানিফ পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসের টিকিট দেয়া হচ্ছে না। এসি বাসের টিকিট বিক্রি হচ্ছে হানিফ পরিবহনের শ্যামলীর কাউন্টার থেকে। কিন্তু সেখানে খোঁজ করেও এসি বাসের টিকিট পাননি মুকতানূর। বাধ্য হয়ে গাবতলী কাউন্টারে গিয়ে ঘণ্টা তিনেক অপেক্ষার পর চেয়ার কোচের দুটি টিকিট কেনেন তিনি।

প্রচন্ড গরমে রীতিমতো যুদ্ধ করে টিকিট কিনতে হয়েছে মুকতানূরকে। তবে টিকিট হাতে পেয়ে মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। বললেন, ‘এসি বাসের টিকিট আসলে পাওয়াই যাচ্ছে না। মালিকপক্ষ নিজেদের কাছেই রেখে দিয়েছেন। গাবতলী কাউন্টার থেকে এসি বাসের টিকিট দেয়া হবে কি-না, এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা হানিফ পরিবহনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।’

মুকতানূর বলেন, প্রতিটি টিকিটের দাম রাখা হয়েছে সাড়ে নয়শ’ টাকা। স্বাভাবিক সময় এর দাম রাখা হয় আটশ’ টাকা।

ঈদের সময় এসি বাসের টিকিট নরমাল চেয়ার কোচের মতো বিক্রি করা হয় না বলে জানান হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক (উত্তরাঞ্চল) মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘যারা পারমানেন্ট যাত্রী, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এসি বাসের টিকিট দেয়া হয়। তা ছাড়া এসি বাসের ব্র্যান্ড রয়েছে। আমাদের ভলভো বাস রয়েছে। কারও কারও স্ক্যানিয়া, হুন্দাই বাস আছে। ব্র্যান্ড ভেদে টিকিটের দাম নির্ধারণ করে মালিক পক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্ধারিত কোনো মূল্য নেই।’

এসি বাসের জ্বালানিসহ পরিচালনা ব্যয় বেশি। তাই ভাড়াও বেশি রাখা হয় জানিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঈদের সময় এসি বাস ঢাকা থেকে যাত্রী পূর্ণ করে ছাড়বে। কিন্তু ফিরবে একেবারে ফাঁকা। তাই এসি বাসের টিকিটে লাভ নেই। আমরা পঞ্চগড়ে এসি বাসের প্রতিটি টিকিটের জন্য ভাড়া নিচ্ছি দুই হাজার টাকা।’

মোশাররফ হোসেনের দাবি, চেয়ার কোচের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী রাখা হচ্ছে। বরং বছরের অন্যান্য সময় তারা কম দামে টিকিট বিক্রি করেন। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বিভিন্ন রুটে হানিফ পরিবহনের বাস চলাচল করে। প্রতিদিন এসব রুটে ২০০টি বাস যাত্রী পরিবহন করে থাকে। এর মধ্যে ২০টি এসি বাস রয়েছে। ঈদের সময় বাড়তি ট্রিপ দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে তাদের। সবকিছু নির্ভর করছে সড়কপথ যানজট মুক্ত থাকার ওপর।

গাবতলীর বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে জানা গেছে, ৩০ মে ও ৩ জুনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কারণ ২৪ রমজান বা ৩০ মে দিনটি হলো বৃহস্পতিবার। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২৭ রমজান বা ২ জুন শবে কদরের ছুটি। ৩ জুন সবশেষ কর্মদিবস। ৪ থেকে ৬ জুন বা মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটি। এরপর ৭ ও ৮ জুন শুক্র ও শনিবার। লম্বা ছুটির ফাঁদ। এই হিসেবে ৫ জুন ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন ধরে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকে এর মধ্যে কেবল ৩ জুন ছুটি নিয়ে বাড়ির পথে ৩০ জুনই রওনা করবেন।

উত্তরাঞ্চলের মতো দক্ষিণাঞ্চল সড়কপথেও বাসের টিকিটের চাহিদা রয়েছে। তবে বেশ কিছু পরিবহনের কাউন্টার থেকে আগে স্স্নিপ নিয়ে যাত্রীদের তালিকা করে রাখা হয়েছে। এই স্স্নিপ অনুযায়ী টিকিট বিক্রি বেশ কয়েক দিন আগেই প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

সাতক্ষীরার যাত্রী নাহিদ হোসেন জানান, তিনি ৩ জুন রাতে ঢাকা ছাড়বেন। স্ত্রীকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। এসি বাসের একটি টিকিটের জন্য তিন দিন আগে ১৪ মে থেকে লাইন পরিবহনে নামের স্স্নিপ লিখে দিয়েছেন। আশা করছেন, হয়তো দু’দিন পর টিকিটটি হাতে পাবেন।