নাটোরে নিজ ঘরে মিলল মা-শিশুর লাশ

১৫ই মে, ২০১৯ || ০৪:৪৯:২৫
13
Print Friendly, PDF & Email

নাটোরের নলডাঙ্গায় দু’বছরের প্রতিবন্ধিশিশু সন্তান আব্দুল্লাহ ও তার মা শারমিন বেগমকে (২৫) খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার উত্তর বাঁশিরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা রাতের কোনো এক সময়ে বাড়িতে ঢুকে মা ও ছেলেকে খুন করে। খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

নিহত শারমিন একই উপজেলার হলুদঘর গ্রামের উমর আলীর মেয়ে ও উত্তর বাঁশিলা গ্রামের মাহমুদুল হক মুন্নার স্ত্রী। মুন্না ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন।

এ ব্যাপারে নলডাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান জানান, নলডাঙ্গা উপজেলায় নিজ ঘরে মা হালিমা আকতার শারমিন ও তার শিশু সন্তান আবদুল্লাহর মৃতদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় স্বজনরা। নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত মাহমুদুল হাসান মুন্নার স্ত্রী শারমিন বেগম তার প্রতিবন্ধি ছেলে আব্দুল্লাহকে নিয়ে উত্তর বাঁশিরা গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। মঙ্গলবার রাতে শিশুসন্তান আব্দুল্লাহকে নিয়ে ঘুমাতে যান তিনি। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে ঢুকে ৬টি ঘরের ৫টিতে বাইরে থেকে শিকল উঠিয়ে আটকে দেয়। এরপর তারা শারমিন ও তার শিশুসন্তানকে হত্যা করে। দুর্বৃত্তরা শিশু আব্দুল্লাহকে হত্যার পর পাশের ডোবায় ফেলে চলে যায়। বাড়ির অন্যরা সেহেরি খেতে উঠে বাইরে থেকে ঘরের দরজার শিকল দেওয়া দেখে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে তাদের দরজা খুলে দেয়। এ সময় নিজ ঘরের মধ্যে শারমিনের গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এ সময় শিশু আব্দুল্লাহকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবায় আব্দুল্লাহর লাশ পান তারা।

ওসি আরো জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই সঠিক তথ্য বলা যাবে।