হাতি সংরক্ষণ দাবিতে এমন ছবি কমই হয়েছেঃ জংলি

76
Print Friendly, PDF & Email

সবসময় খবরগুলো হয়তো সামনে আসে না। কিন্তু আড়ালে-আবডালে ঘটেই চলে চোরাশিকারীদের কারবার। সেটা সারা বিশ্ব জুড়েই। হাতির দাঁত, গণ্ডারের শিং, বাঘের চামড়া এসবের একটা সমান্তরাল বাণিজ্য বর্তমান। আর ভীষণ নৃশংস লোকেদের আনাগোনা সেই ট্রেডে। সামনে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালেই সঙ্গে সঙ্গে পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে হবে, এটাই দস্তুর। শিকার যারা করে তারাও তো আর এমনি এমনি ঝুঁকি নেয় না, এসব জিনিসের চাহিদা আছে বলেই এত তৎপরতা। হাতিদের ক্রমাগত মরতেই হয় অসহায়ের মতো নানা জঙ্গলে, বেচারাদের দাঁতগুলো যে বড্ড দামি। এই যে বিষয়, এর উপরে হিন্দিতে ছবি তেমন তৈরি হয়নি। সেই দিক দিয়ে দেখলে এই ছবির আলাদা একটা তাৎপর্য আছে।



রাজ একজন পশু চিকিৎসক। কুকুরের উপর অত্যাচার করে কেউ তার ভিডিও মোবাইলে তুলে রেখে মজা করছে দেখলেও সে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়। রাজের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে। রাজের বাবা একটি হাতির অভয়ারণ্যের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। সেখানেই অনেক বছর পর ফিরে আসে রাজ। দেখা হয় কম বয়সের বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে। একটা সাব-প্লট চলতে থাকে, যেখানে দেখা যায় আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এক শিকারী। এই শিকারী একদিকে যেমন স্নাইপার গান ব্যবহার করে তেমনই তার আগে ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে হাতির অবস্থান জেনে নেয়। তার তৎপরতাতেই রাজের অতি প্রিয়, ছোটবেলার বন্ধু একটি হাতি মারা যায়। মারা যান রাজের বাবা-ও। এরপর কী হল, কেমনভাবে হল তা পর্দায় জানাই ভালো।



রাজের ভূমিকায় বিদ্যুৎ জাম্মওয়াল অত্যন্ত ভালো। তাঁর চরিত্রটির জন্য যে রকম মারকুটে চেহারার এক যুবকের প্রয়োজন ছিল, সেই চাহিদা তিনি পূরণ করেছেন। তাঁর মতো অসম্ভব ভালো একজন মার্শাল আর্ট জানা অভিনেতা না হলে এই ভূমিকায় উৎরে ওঠা যেতো না। শিকারী কিংবা কলারিপায়াট্টু গুরু হিসেবে অতুল অগ্নিহোত্রী কিংবা মকরন্দ দেশপান্ডের মতো অভিনেতারা ছবিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন। আবার, ‘দোস্তি’ আর ‘গরজে গজরাজ’ গানগুলো শুনতে ভালো লেগেছে। আর ভালো লেগেছে একটি আবেদন, যেখানে বলা হয়েছে হাতির দাঁতের সামগ্রী কেনা যদি আমরা বন্ধ করি তাহলে অনেক হাতির প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারি।