জঙ্গিদের সঙ্গী না হতে পাকিস্তানকে ওয়াশিংটনের হুঁশিয়ারি

16

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ
ভারতে যে কোনো সময় ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিরক্ষাবুহ্য খ্যাত’ পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এক্ষেত্রে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় না দেয়ার জন্য পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারও করা হয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর) পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহকারী সচিব র‌্যান্ডাল শ্রাইভারের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) ভারতের মাটিতে পাক-অধিষ্ঠিত জঙ্গিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। যার ভিত্তিতে পেন্টাগনের মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে বাতিল করার ইস্যুতে, ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসন সৃষ্টি লক্ষ্যে অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে জঙ্গিরা। তবে এক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা যেন অতীতের মত পাকিস্তান প্রশাসনের মদদ প্রাপ্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পাক-সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়।

“পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্ব। জাতিসংঘে বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সমর্থন একটি কূটনৈতিক বিষয়। তবে আমি মনে করি না যে, এ ক্ষেত্রে চীন সন্ত্রাসবাদের মত এ জাতীয় সংঘাত চায় বা সমর্থন করবে।”

এ প্রসঙ্গে শ্রাইভার বলেন, “আমার মনে হয় অনেকেই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন যে পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতে হামলা চালাতে পারে। সেজন্য তারা ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে সেদেশে অনুপ্রবেশের তৎপরতা চালাবে। তবে অপ্রত্যাশিত কোনো কিছু যেন না ঘটে সেজন্য জঙ্গিদের উপর নজরদারি বাড়াতে হবে পাকিস্তানকে। সেই সঙ্গে কোনো পাক-সংশ্লিষ্টতা যেন জঙ্গিদের মদদ না জোগাতে পারে সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে সে দেশের সরকারকে।”

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরোধীতা এবং এক্ষেত্রে পাক-সরকারের প্রতি চীনের সমর্থন প্রদান প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘ সময়ের বন্ধুত্ব। জাতিসংঘে বা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সমর্থন একটি কূটনৈতিক বিষয়। তবে আমি মনে করি না যে, এ ক্ষেত্রে চীন সন্ত্রাসবাদের মত এ জাতীয় সংঘাত চায় বা সমর্থন করবে।”

অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের চলমান সফরের কথা উল্লেখ করে শ্রাইভার বলেছিলেন যে তার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে চীনের অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

“আমরা চীনের সাথে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছি। তারা চীনের সাথে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়, তবে সেখানে দ্বিধা বিভক্তি রয়েছে এ নিয়ে সন্দেহ নেই। সুতরাং কাশ্মীরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবছি। তবে এ ক্ষেত্রে চীন পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকছে, যেটা স্বাভাবিকই বলা যেতে পারে।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার সম্বলিত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ বিধি প্রত্যাহারের পর উপত্যকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহীনির বিরুদ্ধে ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী এবং পাক-অধ্যুষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের সশস্ত্র জঙ্গিরা। চলমান এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসী তৎপরতার সম্ভাব্যতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিকগোষ্ঠী। এদিকে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের বুকে সন্ত্রাসী হামলা সম্পৃক্ত কোনো পূর্বাভাস পেয়েই তৎপর হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।