‘দল-মত, আত্মীয়-পরিবার যারাই সম্পৃক্ত, ব্যবস্থা নেব’

22

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
চলমান দুর্নীতি বিরোধী ও শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখানে দল-মত, আত্মীয়-পরিবার নেই; যারাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেব।

বুধবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে উৎক্ষেপণের দেড় বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহের বাণিজ্যিক সম্প্রচারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা দেখি, উইপোকা খেয়ে ফেলে। এখন এই উইপোকাগুলোকে ধরা আর সেগুলিকে বিনাশ করা, জনগণের কষ্টার্জিত পয়সা যেন সঠিকভাবে দেশের উন্নয়নে ব্যবহার হয় সেজন্য প্রচেষ্টা নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমার বার্তা হচ্ছে- আমার কিন্তু হারানোর আর কিছু নেই। আমি বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। মানুষ একটা শোক সইতে পারে না আর আমরা দুই বোন একদিনে সবাইকে হারিয়েছি। সব শোক কষ্ট বুকে নিয়ে দেশে ফিরে আসা এবং দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে একটাই কর্তব্য মনে করেছি, সেটা হচ্ছে আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছে। দেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন তিনি। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। এখন সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য। কাজেই জীবনকে বাজি রেখেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সব সময়ের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধিত করা। সেটা শুধু রাজধানীর মানুষ না। অর্থনৈতিকভাবে গ্রামের মানুষও যাতে সক্ষমতা অর্জন করে সেটার আমরা সুযোগ করে দিচ্ছি। এ সময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক কেন্দ্র দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোন চরাঞ্চলে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেটার খোঁজ আমি নিচ্ছি।

দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের কাজও শুরু করেছি। এটা আরও বড় আকারে করতে চাই। দেশে বর্তমানে ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ রয়েছে বলেও এ সময় জানান তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো)-এর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী প্রমুখ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক এলাহী চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনিসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ -এর এই বাণিজ্যিক সেবা উদ্বোধনের ফলে এখন থেকে দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এই সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের সম্প্রচার শিল্প এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহারে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলো ভাড়া হিসেবে ব্যবহার করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোস্পানি লিমিটেডের সাথে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর করা চুক্তিপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে চুক্তিপত্রগুলো প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি টিভি মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো এর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বর্তমানে দেশে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের সংখ্যা ৩৪টি। টিভি চ্যানেলগুলোকে প্রতি মেগাহার্টজের জন্য মাসে ভাড়া দিতে হয় ৪ হাজার ডলার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সেটি কমিয়ে ২ হাজার ৮১৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে টিভি চ্যানেলগুলোকে মাসে ১৩ থেকে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে হতো।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারের প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হবে ১২ থেকে ১৬ লাখ টাকা। এর ফলে চ্যানেলগুলোর খরচ কমবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি বাংলাদেশের সব এলাকায় ভালোভাবে কাজ করবে।
২০১৮ সালের ১১ মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপন করা হয় দেশের প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এতে বাংলাদেশের খরচ হয় ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

১৯ মে (রোববার) বিসিএসসিএল ছয়টি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই টিভি চ্যানেলগুলো হচ্ছে, সময় টিভি, যমুনা টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় বাংলা, বাংলা টিভি ও মাই টিভি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল বিটিভির চারটি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে এরই মধ্যে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে।