বশেমুরবিপ্রবির পদত্যাগী ভিসিকে বাকৃবিতে চান না শিক্ষার্থীরা

11

হাসান হাবিব, ঢাকাঃ
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের টানা ১২ দিনের আন্দোলনের মুখে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন।

পদত্যাগের একদিন পেরোতেই সদ্য বিদায়ী বিতর্কিত এই ভিসি তার পুরনো কর্মস্থল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার জন্য আবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) তার যোগদানের আবেদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। শিক্ষার্থীরা চান না এ বিতর্কিত উপাচার্য তাদের শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করুক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাফিজ রেজা বলেন, ‘খোন্দকার নাসিরউদ্দিন একজন দুর্নীতিবাজ লোক। এমনকি তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাও আছে। আমি কখনোই চাই না, একজন দুর্নীতিবাজ, নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত লোক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের আসনে থাকুক। অচিরেই যেন তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়, আমি তার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সাদিয়া ইসলাম তরী নামে এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘বাকৃবির শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন কম পারে না, ভালোই ভালোই বাকৃবি ছাড়বেন তা না হলে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’

বশেমুরবিপ্রবি’র লোগো সম্বলিত গাড়ি নিয়ে খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পূর্বের কর্মস্থল বাকৃবিতে কেন এসেছেন এমন প্রশ্ন তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল মেহেদী বলেন, ‘পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরেও উনি (খোন্দকার নাসিরউদ্দিন) কীভাবে বশেমুরবিপ্রবির পতাকা সম্বলিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির জন্য ইস্যুকৃত গাড়ি নিয়ে পূর্বের কর্মস্থলে যোগদান করতে আসতে পারেন। সেই ক্ষমতা কি উনার আছে?’

ইফতি ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, ‘উনি উনার মান সম্মান সম্পূর্ণটাই বিসর্জন দিয়ে এসেছেন। এখন বাকৃবিতে এসে এখানকার সুনাম, মান সম্মান নষ্ট করার পায়তারা করছেন। বাকৃবির মান-সম্মানের স্বার্থেই তাকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।’

বশেমুরবিপ্রবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করেছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সাংবাদিক সমিতি।

পদত্যাগী সেই ভিসির বাকৃবিতে যোগদানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির নেতারাও।

প্রসঙ্গত, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ কী হওয়া উচিত’ শিরোনামে একটি লেখা ফেসবুকে দেওয়ায় উপাচার্যের নির্দেশে গত ১১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করে বশেমুরবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ভিসির নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তোলেন।

আন্দোলনের মুখে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রশাসন জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে বিরতিহীন আন্দোলন ও অনশন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের ১২ দিন পর সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর কাছে সাদা কাগজে একটি লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন নাসিরউদ্দিন। আর পদত্যাগ করার একদিন পরই মঙ্গলবার সকালে তার পূর্বের কর্মস্থল বাকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগে যোগদানের জন্য আবেদন করেন তিনি।