সামাজিক বৈষম্য দূর করতেই অভিযান চলছে: ভয়েস অব আমেরিকাকে প্রধানমন্ত্রী

9

নিউজবিটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্কঃ
অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সম্মানজনক অবস্থানে থেকেই বিশ্বের সব দেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখছে বাংলাদেশ।

সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গা সঙ্কট ইস্যুতে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা তিন বছর ধরে চলছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের, এর সমাধানও তাদের করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহায়তা ও সাড়া পাচ্ছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গন থেকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও তাদের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারের কি আত্মসম্মানবোধ নেই, তাদের দেশের নাগরিক অন্য দেশে শরণার্থী হিসেবে থাকছে! তাদের উচিত তাদের নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

শক্তিশালী বিরোধী দল গঠিত না হওয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ পরবর্তী গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত করে স্বৈরশাসকদের রাজনৈতিক দল গঠন এবং অন্য দলগুলোর প্রতি জনআস্থার ঘাটতিকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গড়ে উঠতে পারেনি। কারণ দেশে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকেনি। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দল গঠন করেছেন। এরশাদও একইভাবে দল গঠন করেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-বিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেন। অন্য দলগুলো মানুষের আস্থা-বিশ্বাস হারিয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বলেই আমরা বারবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটছে।

দুর্নীতি বিরোধী চলমান অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে সন্ত্রাস দমন করেছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করেছি। জঙ্গিবাদ দমনের সঙ্গে সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করি। সেই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করি। যতটুকু উন্নয়নমূলক কাজ করছি বা বরাদ্দ দিচ্ছি যথাযথভাবে সেটা যদি কাজে লাগাতে পারি, তাহলে দেশের আরও উন্নতি হবে। সেই উন্নতিটা টেকসই হবে। সমাজের বৈষম্য দূর হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের হার বেড়ে গেলে যেসব ব্যক্তি বা তাদের সন্তানরা সৎপথে জীবন নির্বাহ করতে চান, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। সৎভাবে চলতে গেলে একজনকে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে চলতে হয়। আর অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এই ব্র্যান্ড–ওই ব্র্যান্ড, এটা-সেটা, হইচই, খুব দেখানো যায়। ফলাফলটা এই দাঁড়ায়, একজন অসৎ মানুষের দৌরাত্ম্যে যারা সৎ জীবন-যাপন করতে চান, তাদের জীবনযাত্রাটাই কঠিন হয়ে পড়ে।