দেশ ছাড়তে সীমান্তে আশ্রয় যুবলীগ নেতাদের!

21

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত যুবলীগ মনস্টার নেতাদের সিংহভাগ দেশ ছেড়ে পালাতে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।তাদের অনেকেই সীমান্তে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন দেশ ছাড়ার অপেক্ষায়।

এ বিষয়ে বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপুর্ব হাসান বলেন, বেনাপোল সীমান্তে থানা ও চেক পোষ্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বহির্গমনেও সতর্কভাবে যাত্রীদের চেক করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের যেসব নেতা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বা টেন্ডারবাজি, দখল বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাই পালানোর পথ খুঁজছেন। গোয়েন্দা নজরদারি ফাঁকি দিয়ে তারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন সম্প্রতি।

এদিকে, গোয়েন্দারা গত কয়েকদিনে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলেই তাদের ব্যাপারে অ্যাকশনে যাবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন র‌্যাব।

সূত্র মতে, ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ ও সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম আলোচনা ছাড়াও যুবলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম পেয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। সরাসরি তারা জড়িত না থাকলেও নেপথ্যের কারিগর। আবার তারা ক্ষমতার প্রভাবে ব্যাংক ও বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বে থেকে গত কয়েক বছরে ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া যুবলীগের কয়েকজন নেতার ব্যাপারেও আলোচনা হচ্ছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, মাহাবুবুর রহমান হিরণ, আতাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহিসহ বেশ কয়েকজন। অভিযান শুরু হলে তারা রাজধানী ছেড়ে গা ঢাকা দেন।

সূত্র মতে, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রক। বিএনপি-জামায়াতের ঠিকাদারকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দিয়ে থাকেন। এছাড়াও বির্তকিত ঠিকাদার জিকে শামীমের প্রধান নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন। শিক্ষা প্রকৌশলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান হানজেলার সব অপকর্মের নেপথ্যের শক্তি ছিলেন এই যুবলীগ নেতা বলে অভিযোগ রয়েছে। তার রয়েছে শান্তিনগরের টুইন টাওয়ারে আলিশান কয়েকটি ফ্ল্যাট। টুইন টাওয়ার, জোনাকী মার্কেট ও পলওয়েল মার্কেটে রয়েছে তার একাধিক দোকান।

যুবলীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহাবুবুর রহমান হিরণ। তিনি যুবলীগ করার কারণে রুপালি ও জনতা ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় ঋণ পাইয়ে দেওয়া ও ঋণখেলাপীদের নানা সুযোগ সুবিধা দিতে কলকাঠি নেড়েছেন যুবলীগের এই নেতা। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দখলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি মার্কেটের চতুর্থ তলা। যেখানে তার বর্তমান অফিস, ওই মার্কেটে হিরন অপটিকসসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান। সেঞ্চুরি অর্কিড আবাসিক এলাকা। এই এলাকার এক একটি ফ্ল্যাট এর মূল্য ৩/৪ কোটি টাকা। এছাড়াও জিকে শামীমের সঙ্গে বেশ সংখ্যতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠনের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতার বিরুদ্ধেও ক্যাসিনো সম্রাট খালেদ ভুইয়াকে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তিনি দেশের নারী শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী ভিকারুনিসা নূন স্কুল’র গভনিং কমিটির সদস্য থাকা অবস্থায় ভর্তি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। যুবলীগে ফারুক-হিরন-আতা-মাসুদের রয়েছে সিন্ডিকেট। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজউক, শিক্ষাভবন, নগর ভবন, গণপূর্ত, ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড় বড় কাজের সমঝোতা করেন।

মহিউদ্দিন মহি কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক। টানা দশ বছর সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান। রয়েছে ঢাকায় কয়েকটি বাড়ি, বিশটির মতো আলিশান ফ্ল্যাট। তিনি ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে এই ক্লাবে তার নির্দেশেই ক্যাসিনো চলতো। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে ২০ কাঠা জমি দান করেছিলেন মতিঝিল এলাকায়। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা লাভলু, যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজাসহ একটি ডেভলোপার কোম্পানির কাছে উক্ত সম্পত্তি ডেভেলাপ করতে দেন। সেখান থেকে দেয়া ৭০ কোটি টাকা তারা তিনজনে আত্মসাৎ করেছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে।

সূত্র মতে, এসব নেতাদের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের গ্রিন সিগন্যাল পেলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।