আ’লীগে অনুপ্রবেশ: কেমনে করলো প্রবেশ, কেইবা তাদের সহায়ক?

31

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
‘শুদ্ধি অভিযানের পর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মুখে খই ফুটছে’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ১১ বছরে তারা রাজধানীর ডাকসাইটের নেতা হিসেবেই বেশ পরিচিতি ছিলেন। উত্তর-দক্ষিণ দুই অংশে দাবড়ে বেড়াতেন তারা, ব্যানার-ফেস্টুন আর পোস্টারে তাদের ছবি ছাপা হতো মধ্যমণি হিসেবেই। চলাফেরাও করতেন ভিআইপি প্রটোকলে। এখন সেই তারা সবাই না-কি আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী। যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগে তারা ঢুকে পড়েছিলেন বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ফ্রীডম পার্টি থেকে। এসব নিয়েই এখন আলোচনায় ব্যস্ত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। আর এসব বলে অনুপ্রবেশে সহযোগিতার দায় থেকে পার পেতেও চাইছেন নেতারা। তাই কেউ মুখ ফসকেও বলতে চাইছেন না, কীভাবে এরা যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগে অনুপ্রবেশ করেছিল? কার হাত ধরে এবং কেইবা তাদের সহযোগিতা করেছিল?

ক্যা সি নো কে লে ঙ্কা রিঃ
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে দলের সিনিয়র নেতাদের মুখে এখন খই ফুটছে। সবাই একই সুরে কথা বলছেন। ‘আটক-পলাতক’ যার নাম আলোচনায় আসছে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তাকেই বলছেন অনুপ্রবেশকারী। আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণের আলোচিত-সমালোচিত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ (কালা ফিরোজ) ও সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা কাওসারকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবেই আখ্যায়িত করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটিই এখন নানা আলোচনায়। গণমাধ্যমে, টক শোতে, চায়ের টেবিলে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতার ১১ বছর পর কেন আখ্যায়িত হবে ‘অনুপ্রবেশকারী’। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা কি সবাই অযোগ্য ছিলেন? তাদের কি যোগ্যতা ছিল না দায়িত্ব নেয়ার? প্রতিদিন এসবই উঠে আসছে নানা আলোচনায়।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, জুয়ার আসরকে ক্যাসিনোতে উন্নীত করার মূল উদ্যোক্তাই বিতর্কিত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি হলেও তিনি এক সময় বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব তার ঘনিষ্ঠজন। বিএনপির সময়ে তার সাথেই চলতেন সম্রাট।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম পারিবারিক সূত্রে বিএনপির যুব রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শামীম লেখাপড়া শেষে যুবদলের পাশাপাশি ঠিকাদারি শুরু করেন। আর বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ছিলেন ফ্রীডম পাটিতে সক্রিয়।

কৃষক লীগ নেতা ও ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজ বিএনপির এক নেতার ক্যাডারের হাত ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রবেশে করে মাফিয়া হয়ে উঠেন। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানের রাজনীতির সূচনা বিএনপি দিয়ে। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে লাগেজ ব্যবসা করতেন তিনি। আরমান এক সময় বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন ওরফে বাউন্ডারি ইকবালের সহযোগী ছিলেন।

মোমিনুল হক সাঈদ ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মতিঝিল এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হন বিসিবির পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। আটক এই নেতার ক্যাডার হিসেবেই বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে সাঈদের।