শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল যুবলীগের বহিস্কৃত খালেদ

30

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করেছিল সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ১৯৮৯ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করেছিল এই খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াই। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা চেষ্টার সময় সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন তিনি। খালেদ এ হামলা মামলার অন্যতম আসামি।

জানা যায়, তৎকালীন ফ্রীডম পার্টির সঙ্গে সরাসরি তার সম্পৃক্ততা ছিল। ওই হামলার মামলাসহ আরও কয়েকটি আলোচিত হত্যা মামলার আসামি তিনি। কিন্তু একবারও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি তাকে। তার প্রভাবশালী আইনজীবী বাবা তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন বার বার। ২০১৭ সালে মামলার রায়ে ফ্রীডম পার্টির মানিক, মুরাদসহ ১১ জনের ২০ বছর করে সাজা হলেও খালেদের কিছুই হয়নি। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঠিকই রেহাই পেয়ে যান খালেদ। ভোল পাল্টে অর্থ আর ক্ষমতার জোরে বাগিয়ে নেন মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটিও। মালিক বনে যান অঢেল সম্পদের। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ওই ঘটনার পুনঃতদন্ত করে সিআইডি। সেখানে দেখা যায় ‘খালেদ অলিভী’ নামে একজনের নাম আছে। ১৯৯১ সালে সূত্রাপুর থানার একটি মামলায় তাকে মৃত দেখানো হয়। প্রতিবেদনে মৃত তিনজন আসামির মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ থাকলেও খালেদ অলিভী এবং অন্যজন কিভাবে মারা গেঠে তার কোনও তথ্য উল্লেখই নেই।

১৯৯৪ সালে শাজাহানপুর রেলওয়ের কলোনীর আলোচিত পলাশ হত্যা মামলায় আসামির তালিকায় খালেদের নাম রয়েছে। একাধিক মামলায় শাজাহানপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ফ্রীডম পার্টির ক্যাডার মানিকের সাথে খালেদের নামও এসেছে। সে সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী মানিকের ছত্রছায়াতেই বেড়ে উঠে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। শুধু ওই দুই মামলায় নয় আরও অনেক মামলাতেই তার নাম আসলেও বিচারের মুখোমুখি কখনোই হতে হয়নি তাকে। কারণ তার বাবা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ছিলেন বিএনপিপন্থী প্রভাবশালী আইনজীবী এবং অ্যাটর্নি জেনারেল। ৯১ সালের সূত্রাপুর থানায় করা মামলায় নিহত ব্যক্তি অলিভীর নামের আগে খালেদ জুড়ে দেয়া হয়। ফলে সুকৌশলে তারা নামই মুছে দেয়া হয়।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার কর্মচারী মোহাম্মদ আলী বলেন, খালেদ এ ঘটনার সথে জড়িত ছিলেন। একদিন তারা বাবা আমাকে বলেছিলেন, যদি অ্যাডভোকেট না হতাম খালেদের এসব মামলা গায়েব করে দিতে পারতাম।