মাদকের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ধানমণ্ডি ক্লাব, কারণ দর্শানোর নোটিশ

16

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
রাজধানীর ধানমণ্ডি ক্লাবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ক্লাবে অভিযান চালিয়ে পাওয়া মাদকদ্রব্য বিষয়ে জানতেই এই নোটিশ দেয়া হয়েছে। ধানমণ্ডি থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) রাতে ধানমণ্ডি ক্লাবের বার ২৪ ঘণ্টার জন্য সিলগালা করে দেয় র‌্যাব-২। ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করলেও ওইদিন বার বন্ধ থাকায় এর ভেতরে প্রবেশ করেনি র‌্যাব সদস্যরা।

ওইদিনের অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২ এর এসপি শাহবুদ্দীন বলেন, মাদক, ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে চলা অভিযানের অংশ হিসেবেই ধানমণ্ডি ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ক্লাবে দু’একজন স্টাফ ছাড়া কেউ ছিল না।

তিনি বলেন, এই ক্লাবের একটি বার রয়েছে। কিন্তু ক্লাবটি বন্ধ থাকায় রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বারের অনুমোদন অনুযায়ী লিকারের স্টক মেলাতে পারিনি। তাই র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজম ক্লাবটির বার ২৪ ঘণ্টার জন্য সিলগালা করে দেন।

সিলগালা পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্লাবের সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বলেন, তারা (র‍্যাব) এসে কাগজপত্র দেখে সিলগালা সরিয়ে দিয়েছেন।

মজুদের সঙ্গে নথিপত্রের মিল আছে কি না, তা মিলিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছিল র‍্যাব। পরের অভিযানে তা মিলিয়ে দেখেছে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে কাজল বলেন, সব ঠিক আছে।

আপনি বলছেন সব ঠিক আছে, কিন্তু র‍্যাব তা মিলিয়ে দেখেছে কি-না? এর জবাবে তিনি আবারও বলেন, সব ঠিক আছে ভাই, সব ঠিক আছে।

র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ বিষয়ে জানান, পরের অভিযানে গেলে তারা তাদের বারের অনুমোদন আছে বলে আমাদের কাগজপত্র দেখান। পরে আমরা বারটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর (হ্যান্ডওভার) করি। কারণ, বেসিক্যালি এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিষয়।

অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সেখানে পাওয়া গেছে। সেগুলোর অনুমোদন সংক্রান্ত যথাযথ কাগজ তারা দেখাতে পারেনি। তবে তারা দাবি করেছে, এসব কাগজ তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে না পারলেও তা তাদের কাছে আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সংশ্লিষ্ট ধানমণ্ডি থানায় একটি জিডি করেছি। এরপর এ বিষয়ে জানতে শোকজ লেটার (কারণ দর্শানো নোটিশ) দিয়েছি। এখন যদি তারা তাদের দাবি অনুসারে সেসব কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারে এবং তা সন্তোষজনক হয় তাহলেই কোনও সমস্যা নেই। গোলমাল পেলে বা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।