আওয়ামী লীগ নেতার কর্মচারীর বাসায়ও কাড়ি কাড়ি টাকা

32

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ব্যাংকে টাকা রাখার অভ্যাস কম ছিল আবুল কালাম আজাদের। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিশ্বাসও করতো না। তাছাড়া ব্যাংকে বেশি টাকা রাখলে প্রশাসনের নজরও পড়ে। আর তখনই দুর্নীতি দমন কমিশনের নজর পড়ে টাকাওয়ালা বিত্তবানদের উপর। দুদকের রোষানল থেকে বাঁচতেও ব্যাংকে কম টাকা রাখতেন আজাদ। এটা তার কৌশল।

পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা এনামুল হকের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের প্রতিবেশী মীর হোসেন মিরু এমনটাই বলেন।

গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হকের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বাসায়ও আজ মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সেখানে কাড়ি কাড়ি টাকা মিলেছে। গেণ্ডারিয়া থানার নারিন্দা এলাকায় আজাদের বাসায় এ অভিযান চালায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, এনামুল হকের কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের বাসায় একটি ভল্টে ১ হাজার টাকার নোটের অনেকগুলো বান্ডিল পাওয়া গেছে। তাতে প্রায় দুই কোটি টাকা রয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টায়ও আজাদের বাসায় অভিযান চলছিল।

এর আগে সকাল থেকে সূত্রাপুর থানার অদূরে বানিয়ারচর এলাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ টাকা, স্বর্ণ ও অস্ত্র জব্দ করা হয়।

গতকাল সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতের পর এই দুই নেতার বাসায় অবস্থান নেয় র‌্যাব। আজ মঙ্গলবার অভিযানে ৩টি ভল্ট খোলা হয়। এসময় নগদ ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ও ৭২০ ভরি (৮ কেজি) স্বর্ণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে দুপুরের পর সাংবাদিকদের র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, এই দুই নেতা ক্যাসিনোয় লাভের টাকা বাড়ি নিয়ে রাখতেন। টাকা রাখলে বেশি জায়গা লাগে। তাই তারা স্বর্ণ কিনে সেগুলো ভল্টে রাখতেন। এছাড়া তাদের বাসায় ৫টি অস্ত্র পাওয়া গেছে। এগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।