এবার পুরস্কারঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হান্নান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে!

18

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণেই শুধু ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে- তাই নয়, খোদ ওমর ফারুক চৌধুরীর নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান পেয়েছে সরকারের পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম কামরুল হাসান হান্নান ওরফে ছোট হান্নান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশজুড়ে চলা শুদ্ধি অভিযানের মধ্যেও রাজধানীর অনেক এলাকায়ই চলছে তার পোস্টার প্রচারণা। যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের প্রচারণা চালাচ্ছেন রাজধানীর রমনা থানার ইস্কাটন এলাকার এই পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী।

ইস্কাটন, সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার, বেইলি রোড ও কাকরাইল এলাকার দেয়ালে দেয়ালে টাঙ্গানো কামরুল হাসান হান্নানের পোস্টারে নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যর পরিচয় তুলে ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি। এসব পোস্টারে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং বর্তমান সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছবি রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর রাজধানীর অনেকস্থান থেকে হান্নান তার লোকজন দিয়ে পোস্টার তুলে ফেলেছেন।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিষদে পুরস্কারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর কেউ নেই। যদি কেউ এমন পরিচয় দিয়ে থাকেন, তবে তাকে ধরিয়ে দিন। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে পেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেয়া আমাদের দায়িত্ব।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে রাজধানীতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম এতটাই বেড়েছিল যে, আতঙ্কের মধ্যে প্রতিটি মুহূর্ত কাটাত রাজনীতিক-ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। সন্ত্রাসীরা সে সময় দিনে-দুপুরে চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাত, সঙ্গে কাফনের কাপড়ও। অনেকেই নীরবে সেই চাঁদা দিয়েও দিত। না দিলে জীবন দিতে হত। তাদের সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। এমনই অবস্থায় সেই বছরের ২৬ ডিসেম্বর সরকারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের সদর দপ্তর থেকে সরকারের নির্দেশনায় ভয়ঙ্কর হিসেবে উল্লেখ করে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদের ধরিয়ে দিতে ৮ জনকে ১ লাখ টাকা এবং ১৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা হলো, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, কালা জাহাঙ্গীর, খন্দকার তানভীরুল ইসলাম জয়, কামরুল হাসান হান্নান ওরফে ছোট হান্নান, সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেল, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, খোরশেদ আলম রাসু, ইমাম হোসেন, প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, আব্দুল জব্বার মুন্না, আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস, আরমান, হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, শামীম আহম্মেদ ওরফে আগা শামীম, জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক, সাগর ওরফে টোকাই সাগর, মশিউর রহমান কচি, সানজিদুল ইসলাম ইমন, জিসান ওরফে মন্টি, মশিউর রহমান, পিচ্চি হান্নান ও আলাউদ্দিন। এদের মধ্যে পিচ্চি হান্নান র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ এবং আলাউদ্দিন গণপিটুনিতে নিহত হয়। আর বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছে ৮ জন। বাকি ১৩ জনই পলাতক।