ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো

22

ঋত্বিক তারিক, ঢাকাঃ
মোহামেডান চালান লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, আরামবাগ সভাপতি মোমিনুল হক সাঈদ, ভিক্টোরিয়ার শীর্ষ কর্তা শওকত আলী খান।
ক্যাসিনো কেলেংকারিতে সিলগালা হওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে আছে দেশের শীর্ষ লীগে খেলা ক্লাবও। মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, আরামবাগ তারই উদাহরণ। এসব ক্লাবগুলোর পরিচালনায়ও আছেন দেশের শীর্ষ সংগঠকরা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অনেকাংশ ক্লাবই চলে সেই সব সংগঠকদের কর্মতৎপরতায়।

ক্যাসিনো ব্যবসা ও মাদক সেবনের অভিযোগে রাজধানীতে এ পর্যন্ত সিলগালা হয়েছে আটটা ক্লাব। যার মধ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব থেকে শুরু করে আছে শীর্ষ লীগে খেলা ক্লাবও। পেশাদার ফুটবল লীগে নিয়মিত খেলছে মোহামেডান, আরামবাগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এ ক্লাবগুলোও সরকারি সংস্থার অভিযানে একই দোষে দুষ্ট। তাই, কৌতুহল বাড়ছে, কাদের পরিচালনায় চলছে ক্লাবগুলো।

মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়া সংগঠক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। তবে, বেশ কয়েক বছর আগেই এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মূলত সব কাজ চলে ক্লাবটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়ার ইশারায়। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকও। তার সঙ্গে ঘনিষ্ট হিসেবে ক্লাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজ করে আসছেন ক্লাবটির দুই পরিচালক আমিরুল ইসলাম বাবু এবং সারোয়ার হোসেন। আমিরুল ইসলাম বাবু বাফুফের কার্যনির্বাহীর কমিটিরও সদস্য।

পেশাদার লীগের দল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। ক্লাবটিও সিলগালা হয়েছে অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নমুনা পাওয়ায়। এই ক্লাবের সভাপতি মোমিনুল হক সাঈদ। সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার। ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে যুক্ত আছেন আরও বেশ কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে। কিছুদিন আগেই নির্বাচিত হয়েছেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে আছেন বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটিতেও।

ভিক্টোরিয়া ক্লাব শীর্ষ ক্রীড়া সংগঠনের তালিকায় না থাকলেও অংশ নেয় সব খেলাতেই। ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠক শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর। বাফুফেতে গতবারের নির্বাচনে কার্যনির্বাহী পদে পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ ভোট। ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন বক্সিং ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তা। এছাড়া, আছেন বাফুফের মহানগর লীগ কমিটিতেও।

সুপরিচিত সংগঠক, ব্যবসায়ী অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাই দেশের শীর্ষ সব ক্লাব পরিচালনা করে আসছেন। যাদের অনেকেই এই মুহুর্তে আছেন গা ঢাকা দিয়ে। তবে, এখনও অভিযানের বাইরে আছে ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল, শেখ রাসেলের মতো বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ক্লাব। তাই, প্রশ্ন উঠছে মন্দের মধ্যে ভালো বলেই পার পাচ্ছেন তারা, নাকি আছে কোন বিশেষ কারণ?