ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলার অভিযোগ

15


ঢাবি করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকাতে নেতা-কর্মীদের ওপর রড, লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ঢাবি ক্যাম্পাসে ঘটনাটি ঘটে।

ছাত্রলীগের এ হামলায় ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা যায়। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সোহেলসহ ১০ জন রয়েছে বলে জানায় ছাত্রদল।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাথার ছাত্রদল নেতা কাওসার মাহমুদ জানান, নব গঠিত ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের অবস্থানকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেে।

তিনি বলেন, নবগঠিত কমিটি রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো মধুর ক্যান্টিনে যায়। এদিন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নামে ‘আপত্তিকর’ স্রোগান দিতে থাকে। যদিও গতকাল (রোববার) বড় ধরনের কোনও অঘটন ঘটেনি। দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধুর ক্যান্টিনে গেলে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদলের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ছিনতাই করেছে ছাত্রলীগ: শ্যামল
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা রড ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করেছে বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। তিনি অভিযোগ করে জানান, ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের ৪০/৫০ জন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। ছাত্রলীগের হামলায় এক সাংবাদিক মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় তার মোবাইলও কেড়ে নিয়ে যান সনজিতের অনুসারীরা।

ছাত্রদল নেতা নূরে আলম সিদ্দিকি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের হাকিম চত্বরে মাই টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে আসেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এ সময় ৭-৮ জন নেতা-কর্মী নিয়ে সনজিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদল টিএসসিতে চলে আসলে সনজিতের অনুসারী কমপক্ষে ৫০ জন নেতা-কর্মী রড, লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় ছাত্রলীগের হামলায় কমপক্ষে তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এরমধ্যে স্টুডেন্ট জার্নালের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার আনিসুর রহমানের কান ফেটে যায়। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তার মোবাইলও ছিনতাই করে নিয়ে যান।