মহি রেজা বাবু সান্টুসহ নজরদারিতে যুবলীগের ডজনখানেক নেতা

23

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
যুবলীগের কথিত কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই যুবলীগের ডজনখানেক নেতার খোঁজে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তথ্যের সূত্র ধরে খোঁজা হচ্ছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টুসহ ডজনখানেক নেতাকে।

জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি। এর আগে একটি ক্লাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা দিয়ে ৭০ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন। এখানে ১৭ কোটি টাকার ভাগ নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা।

অভিযোগ রয়েছে, আর কে মিশন রোডের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে মহিউদ্দিন মহির নেতৃত্বে জুয়া ও ক্যাসিনো খেলা হয়ে থাকে। মহির বিরুদ্ধে গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ভবন, শিক্ষা ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

রেজা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন। এক সময়ে চলার মতো টাকা-পয়সা না থাকলেও এখন ঢাকায় একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট রয়েছে তার। রয়েছে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে বিলাসবহুল লঞ্চও। তার লঞ্চের নাম রয়েল ক্লুজ-২। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে কয়েকশ কোটি টাকা দিয়ে নামে-বেনামে আরও একাধিক লঞ্চের মালিক বনে গেছেন এই রেজা। সদরঘাটে রেজার নিয়ন্ত্রণে চলে নিরব চাঁদাবাজি। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

গাজী সরোয়ার বাবু যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক এবং হাসপাতালের ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান। বাবুর নেতৃত্বে এই হাসপাতালে রোগীদের জিম্মি করে পকেট কাটা হয়। রীতিমতো ভড়কে যাওয়ার মতো তথ্য। এই হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে একটি ডিম ১৪০ টাকা ও কলা ১৭০ টাকা নেয়া হয়। গত চার বছর ধরে তিনি রোগীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা মালিক বনে গেছেন তিনি। সদরঘাটের গ্রেটওয়াল মার্কেটের সভাপতিও এই বাবু। এই মার্কেটের দখল নিয়ে বিএনপির আমলে সংঘর্ষে একজন মারা যান।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৪০টি দোকান দখল করে নিয়েছেন বাবু। যেখানে কোনও দোকান ছিল না। ওই দোকানগুলো দখল নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন ভবনের ঠিকাদারি তার নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টুকেও খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন এরই মধ্যে তার বিত্ত-বৈভবের অনুসন্ধান শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের।

জি কে শামীম ও তার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব ভবনে ঠিকাদারি করে কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার মূল শক্তি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান ভূঁইয়া বলে জানা গেছে।

নজরদারিতে রয়েছেন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নেয়া। মেয়র সাঈদ খোকনের কাছের লোক হিসেবে পরিচয় এই রতন সিটি করপোরেশনের কাজও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সব কাজের জন্য নিয়মিত বড় একটা কমিশন তাকে দিতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।