চোরাই তেল বিক্রেতাই এখন রাজধানীর মুকুটহীন সম্রাট!

30

সিনিয়র করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
এক যুগ আগেও রাজধানীতে গাড়ির তেল চুরি করে বিক্রি করতেন মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার। সেখানেই ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে মুকুটহীন সম্রাট। এছাড়াও তারা ফকিরেরপুল ও বিজয়নগর পল্টনে সড়কের মোড়ে অস্থায়ী টং দোকানে চোরাই তেল রেখে মোটরসাইকেলেসহ ছোট ছোট যানবাহনে বিক্রি করতেন।

স্বজনদের দেয়া তথ্য মতে, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট মাত্র ১২ বছর আগে সাঈদের সঙ্গে ঢাকায় গাড়ির চোরাই তেল বিক্রি করতেন। অথচ এখন তিনিই এলাকায় যান হেলিকপ্টারে করে। সম্রাট মাসে ১০ বার জুয়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। এটি তার এক ধরনের নেশা। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন হেভিওয়েট জুয়াড়িরা। সেখানে সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবেই পরিচিত। প্রথম সারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে ভিআইপি হিসেবে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি লিমুজিন-এ করে। সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম। তাদের মধ্যে সাঈদ কমিশনারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি ১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ির তেল চুরির ব্যবসা করতেন। সম্রাটের মতো তিনিও এখন হেলিকপ্টারে করে এলাকায় যান। আগামীতে এমপি হতে চান। এ নিয়ে তোরজোড়ও শুরু করে দিয়েছেন। দোয়া চেয়ে এলাকায় লাগাচ্ছেন পোস্টারও।

গোয়েন্দা সূত্র মতে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের অফিস কাকরাইলে রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে (পশ্চিম)। সেখানেও গভীর রাত পর্যন্ত ভিআইপি জুয়া খেলা চলে। প্রতিদিনই ঢাকার একাধিক বড় জুয়াড়িকে সেখানে জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সম্রাটের অফিসে খেলার নিয়ম ভিন্ন। সেখান থেকে জিতে আসা যাবে না। কোনো জুয়াড়ি জিতলেও তার টাকা জোরপূর্বক রেখে দেয়া হয়।

রাজধানীর ফকিরেরপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গত সোমবার গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীর ক্যাসিনো ব্যবসায় খালেদের সঙ্গে রয়েছেন আরও কয়েকজন যুবলীগ নেতা। তাদেরই শীর্ষ একজন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। খালেদের গডফাদারও তিনিই।

খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পরই কাকরাইলে যুবলীগের কার্যালয়ে অবস্থান নেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ওই কার্যালয়ের সামনে হাজারখানেক নেতাকর্মীও অবস্থান নেন। রাত ৩টার পরও কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে সম্রাট গণমাধ্যমকে বলেন, আমার কাছে নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই আসেন। রাত ১টা-২টা পর্যন্ত থাকেন। এটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে তাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

অনেকেই সন্দেহ করছেন, সম্রাট একটি প্রভাবশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে আছেন। তাকে যে কোনো সময়ে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। তবে বিষয়টি পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।