‘টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজন প্রগতিশীল রাজনীতি, দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা’

11

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে প্রগতিশীল রাজনীতির প্রয়োজন। উন্নয়ন ধরে রাখতে না পারার প্রধান কারণ হচ্ছে প্রগতিশীল রাজনীতির অভাব ও মৌলবাদী রাজনীতি। যে কারণে অনেক দেশ পিছিয়ে গেছে। বাংলাদেশে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য দৃষ্টান্ত। তার কারণে দেশ এগিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার মধ্যে দূরদর্শিতা ও সাহস রয়েছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়নে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন, কলামিস্ট ও অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী, দৈনিক কালের কণ্ঠের সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলী হাবিব, কলামিস্ট আবুল বাকি চৌধুরী নবাব, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এফ এম শরিফুল ইসলাম।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন সেই মানুষ যিনি তার দেশের সামনের একশ বছর দৃশ্যমানভাবে দেখতে পারেন। তিনি তার পরিকল্পনা দিয়ে দেখিয়েছেন ২১০০ সালে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে- উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেই তিনি ঘোষণা করেছেন, ১০ বছরের ভেতরে তিনি পাকিস্তানকে সুইজারল্যান্ড বানিয়ে দেবেন। আমি পাকিস্তানি টেলিভিশনের টক শো এর একটি ভিডিও দেখছিলাম। সেই টক শোতে এক ভদ্রলোক বলছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (ইমরান খান) আপনি আমাদের জন্য সুইজারল্যান্ড বানিয়েন না, দয়া করে আমাদের বাংলাদেশ বানিয়ে দেন। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখে। পাকিস্তান এখন প্রত্যেকটি সূচকে বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে, দমন করতে সক্ষম হয়েছে, সত্যিকারের একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে। আর পাকিস্তান মৌলবাদের কারণে পিছিয়ে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ধনী দেশ পৃথিবীতে অনেক ছিল। মিসর, সিরিয়ার মতো দেশ ডলারের হিসেবে অনেক আগেই ধনী হয়েছে। কিন্তু এসব দেশ উন্নয়ন ধরে রাখতে পারেনি। উন্নয়ন ধরে না রাখতে পারার কারণ হচ্ছে প্রগতিশীল রাজনীতির অভাব।

তিনি বলেন, প্রগতিশীলতার অন্যতম উপাদান হচ্ছে বিজ্ঞানমনস্কতা। বিজ্ঞানমনস্ক যে কেউ ধর্মান্ধ হয় না, আর সঙ্গে নিজস্ব সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবোধ যদি কেউ লালন করে তবে উন্নয়ন এগিয়ে নেয়া সম্ভব। আমরা যদি একইসঙ্গে অনেক ধনী হলাম কিন্তু মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী হয়ে গেলাম, প্রচুর সংগঠন এখন এমন হয়ে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের যে সমস্ত অর্জন হয়েছে, তাকে ধুলিসাৎ করতে সময় লাগবে না।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রচ্য থেকে যেমন রেমিটেন্স আসছে, তেমনি ওখান থেকে একটি সংস্কৃতিও আমাদের এখানে রপ্তানি করা হয়েছে। এটা আমাদের ধর্মী অনুশাসন, পোশাকসহ সব কিছুতে। তিনি বলেন, সাম্যের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি যোগ থাকতে হবে। তাহলে সকলের মধ্যে একটি উদার মানসিকতা তৈরি হবে।

সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের উপ-উপচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার পরিবার কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার রাজনীতি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতান্ত্রিক সমাজ তৈরির। আমাদের এখন প্রধান কাজ হচ্ছে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা। তাকে ও তার পরিবারকে রক্ষা করতে পারলেই বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কলামিস্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, সব দেশ মিলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অনেক আছে কিন্তু এর মধ্যে কতজন রাষ্ট্রনায়ক হয়ে উঠতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়। নেতৃত্বের রাজনৈতিক সাহসের মাধ্যমে এই বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। যেই রাজনৈতিক সাহস শেখ হাসিনার মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। এসময় তিনি ১/১১ প্রেক্ষাপটে বিদেশে থাকাকালে শেখ হাসিনার সাহস, ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিজয়ে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উদাহরণ দেন।