ছিল না লাইসেন্স, স্টিয়ারিং ধরার দিনই কৃষ্ণাকে বাসচাপা

24

স্টাফ করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
ঈদের আগে চালিয়েছেন প্রাইভেটকার। রয়েছে হালকা যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স। ভারী পরিবহন চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলেও গত ২৭ আগস্ট প্রথমবারের মতো হাত রাখেন ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের বাসের স্টিয়ারিংয়ে। আর প্রথমদিনই ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে চাপা দেন তিনি।

ডিওএইচএস থেকে শাহবাগের উদ্দেশে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯১৪৫) চালিয়ে আসছিলেন মোরশেদ। বাংলামোটর এলাকার ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় চৌধুরীকে চাপা দেন। ওই ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি কৃষ্ণা। দুর্ঘটনার পর সুকৌশলে আত্মগোপনে যান ঘাতক চালক মোরশেদ।

তবে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। রোববার দিবাগত রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো উত্তরের একটি দল রাজধানীর কাজীপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতার মোরশেদ মিডিয়াম ক্যাটাগরির যানবাহন চালানোর লাইসেন্সধারী। মিডিয়াম লাইসেন্স নিয়ে সাত টনের নিচে যানবাহন চালানো যায়। এর বেশি হলে তা ভারী যানবাহন। দুর্ঘটনার ট্রাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ওই বাস ভারী যানবাহন ক্যাটাগরির।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক জুয়েল মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর মোরশেদ বাস থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে যাত্রীদের হাতে মারধরের শিকার হন। এ সময় তার জামাকাপড় ছিড়ে যায়। ওই অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।

রাজধানীর কাফরুল ইব্রাহিমপুরের ভাড়া বাসায় গিয়ে সেখান থেকে চলে যান কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নামাপাড়ার বড়টিয়াপাড়া গ্রামের বাড়ি। সেখানেই পাঁচদিন ধরে অবস্থান করছিলেন। মোবাইল ফোনের সিমও পরিবর্তন করেন। দিনে নিজ বাড়ি থাকলেও রাতে থাকতেন প্রতিবেশীর বাড়িতে।

জুয়েল মিয়া বলেন, ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়ানোর পর পিবিআই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মোরশেদকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। মোরশেদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কিশোরগঞ্জের তার গ্রামের বাড়িতে যাই। কিন্তু চতুর মোরশেদ বাড়ির নারিকেল গাছে ওঠে আত্মগোপন করে। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ঢাকায় ফিরে আসি। পরে বাড়ি ছেড়ে ফের রাজধানীর উদ্দেশে রওনা দেয় মোরশেদ। জানতে পারি গাজীপুর হয়ে কাজীপাড়ায় আসছেন। পরে তাকে কাজীপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই পরিদর্শক জুয়েল মিয়া আরও বলেন, মোরশেদ প্রথমে বাসের সহকারী ছিলেন। এরপর তিনি প্রাইভেটকার ও হালকা যানবাহন চালিয়েছেন। মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্স পেলেও ভারী বাস চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল না। আর প্রথম দিনেই ট্রাস্টের ওই বাস চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটান।

তবে দুর্ঘটনার দায় এড়িয়ে মোরশেদ দাবি করেছেন, ট্রাস্টের ওই বাসটিতে সমস্যা ছিল। ব্রেক করতে গিয়েও ব্রেক হচ্ছিল না। আর এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্সধারী মোরশেদ ট্রাস্টের ৪০ আসনের বাস চালাতে পারেন কি না, জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (অপারেশন) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, বিআরটিএ নিয়ম অনুযায়ী সাত টনের বেশি ওজনের যানবাহন ভারী যানবাহন। এ ধরনের যানবাহন চালানোর জন্য চালককের ভারী বা হেভি লাইসেন্স দরকার।

তিনি আরও বলেন, ট্রাস্ট্রের ওই বাস ভারী ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে। সাত টনের নিচে মিনিবাস, মাইক্রোবাস হচ্ছে মিডিয়াম ক্যাটাগরির যানবাহন। মিডিয়াম ক্যাটাগরির লাইসেন্স নিয়ে ভারী যানবাহন চালানো নিয়ম বহির্ভূত।

পরিদর্শক জুয়েল বলেন, আহত কৃষ্ণার স্বামী রাধে শ্যাম চৌধুরী দুর্ঘটনার পর বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। থানার মামলা নং-৩৭। হাতিরঝিল থানায় বাসটি আটক আছে। ওই মামলায় চালক মোরশেদকে গ্রেফতার দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।