সরকারি কোষাগারে দিতে হবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত টাকা

16

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন- ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশের স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিলে সবশেষ ব্যালেন্স আছে দুই লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। টাকাগুলো স্থিতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকে অলস পড়ে আছে। টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে বিনিয়োগ করা হচ্ছে না। এজন্য এ আইনের মাধ্যমে সরকার অলস পড়ে থাকা এসব টাকা ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব অর্থের কিছু প্রভিশন রেখে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসার জন্য আইনটি পাস করা হয়েছে। টাকাগুলো জনকল্যাণমূলক কাজ- যেমন বিভিন্ন প্রকল্প আর্থিক সঙ্কটে আছে, সেগুলোতে ফাইন্যান্স করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু কারণে তাদের উদ্বৃত্ত টাকা রেখে দিতে পারবে। প্রথমত, সংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয় (নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাৎসরিক ব্যয় হিসেবে প্রয়োজনীয় অর্থ) নিজস্ব তহবিলে রেখে দিতে পারবে।

দ্বিতীয়ত, আপৎকালীন ব্যয়ের জন্য মোট পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ এসব প্রতিষ্ঠান রেখে দিতে পারবে।

তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানে বিধি মোতাবেক পেনশন এবং জিপিএস যেগুলো থাকে, সেই অর্থও তারা প্রতিষ্ঠানের তহবিলে রেখে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘এসব ব্যয় নির্বাহের পরে যে অর্থ তাদের কাছে থাকবে, তা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের বিপদে পরার কোনো কারণ নেই।’

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার কথা উল্লেখ করে শফিউল আলম বলেন, ‘এ তালিকার শীর্ষে আছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান, মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬৮টি। আর এসব প্রতিষ্ঠানে অলস পড়ে আছে মোট দুই লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে উদ্বৃত্ত টাকার পরিমাণ ২১ হাজার ৫৯০ কোটি, পেট্রোবাংলায় ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, পিডিবিতে ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরে নয় হাজার ৯১৩ কোটি এবং রাজউকে চার হাজার ৩০ কোটি টাকা।