কে হবেন মাসুদ রানা : বিচারকদের কটূ আচরনে সমালোচনার ঝড়

36

বিনোদন ডেস্কঃ
বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এক দুর্ধর্ষ স্পাই মাসুদ রানা। গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ-দেশান্তরে। বিচিত্র তার জীবন। রহস্যময় তার গতিবিধি। কোমলে-কঠোরে মেশানো নিষ্ঠুর-সুন্দর তার অন্তর। টানে সবাইকে, কিন্তু বাঁধনে জড়ায় না। কোথাও অন্যায় অবিচার দেখলে রুখে দাঁড়ায়। পদে পদে তার বিপদ শিহরণ ভয় আর মৃত্যুর হাতছানি। 

বাংলাদেশি সাহিত্যের জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানা। কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা মাসুদ রানা সিরিজ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। বইয়ের মাসুদ রানা এবার উঠে আসছেন চলচ্চিত্রের রূপালি পর্দায়। জাজ মাল্টিমিডিয়া ঘোষণা দিয়েছে ধ্বংস পাহাড়, ভারতনাট্যম এবং স্বর্ণমৃগ- এই তিনটা উপন্যাস নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করবে। কিন্তু মাসুদ রানা কে হবেন? পাঠক মানসপটে যে মাসুদ রানার ছবি অঙ্কিত ছিল পর্দায় তার প্রতিচ্ছবি কে তুলে ধরতে পারবেন? 

এই সময়ের নায়কদের চেহারা মনে করলে কি মাসুদ রানা মনে হয়? এসব তর্ক বিতর্কের বাইরে গিয়ে নির্মাতা সংস্থা মাসুদ রানা রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে খুঁজে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই উদ্যোগ তৈরি করেছে বিতর্ক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায়, টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়া পর্বগুলোর দৃশ্য কেটে ভাইরাল হচ্ছে। একই সাথে বিচারকদের তুলোধনা করছেন নেটিজেনরা।

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, বিচারকদের হতে হবে বিচক্ষণ, অনুপ্রেরণাদানকারী। যদি প্রথমেই কাউকে নিরুৎসাহিত করা হয় তাহলে অভিনয়ে আগ্রহী ওই তরুণ-তরুণী কখনোই ভালো করবে না।

রিয়েলিটি শো এর বিচারকার্যে অংশ নেওয়াদের মধ্যে একজন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ফেসবুকে শবনম ফারিয়া বলেন, ‘অনুষ্ঠানের টিআরপি বাড়াতে যেটা করতে বলা হয়েছে সেটাই করা হয়েছে।’

তবে বদিউল আলম খোকন বলছেন, ‘আমি আমার কথা দিয়ে উদাহরণ দিতে পারি। আমি যখন একটা কাজ করবো, ধরেন একটা সিনেমাই বানাবো- সেসময় ওই সিনেমার লগ্নিকারী বা প্রযোজককে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো টাকা ফেরত দেওয়ার বা লগ্নি করা টাকা উঠিয়ে দেওয়ার। কিন্তু এক্ষেত্রে ওই পরিচালক যদি আমাকে উঠতে বসতে নির্দেশনা দান করে তাহলে আমার উচিৎ হবে ওই সিনেমা না করা।’ 

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্মাতা বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ বলেন, আর ভারত বলেন এসব বিচারকার্যে বিচারকদের কোনো হাতই থাকে না। এসব রিয়েলিটি শো’র একজন প্রযোজক থাকেন যিনি বলে দেন অনুষ্ঠান কীভাবে টেনে নিতে হবে। উপমহাদেশের টেলিভিশন শোগুলোতে এখন এভাবেই টিআরপি টেনে তোলা হচ্ছে। ক’দিন আগে কলকাতার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে আমাদের দেশের একজনকে প্রতিযোগিতায় রেখে টিআরপি শীর্ষে ওঠে। অথচ তাকেই শেষ পর্যন্ত আকাঙ্ক্ষিত স্থান দেওয়া হয়নি।’ 

এ প্রসঙ্গে নির্মাতা খোকন বলেন, ‘আমার ছবিতে এই প্রথম এক মেয়ে অভিনয় করতে যাচ্ছে, যে পূর্বে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তাকে আমি প্রথম টেকে যদি বলি এটা ভালো হয়নি, তাহলে সেটা ঠিক হবে না। তাকে বলতে হবে এটা ঠিক হয়েছে তবে এর চেয়ে বেটার করো, তখন সে বেটার আউটপুট দেবে। কিন্তু আমি যদি বলি ভালো হয়নি, তাহলে সে আর ৫০ টেকেও নিজের ভালোটা দিতে পারবে না। তাকে অনুপ্রেরণা দিতে হবে। রিয়েলিটি শো যদি অভিনয় নিয়ে হয়, তাহলেও একই কাজ করতে হবে। যদি খারাপ ব্যবহার করা হয় তাহলে বলতে হবে সেটা জাজমেন্টের এথিকসের বাইরে।’ 

এসব রিয়েলিটির শো এই বিষয়গুলোকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই উল্লেখ করছেন অনেকেই। একজন নেটিজেন বলছেন- ভারতের রোডিশ নামের একটি রিয়েলিটি শোতে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রুঢ় আচরণ আচরণ করা হয়। মাসুদ রানা হতে আসবে কেউ, আর এতো অল্পতেই ভেঙে পড়বে তা কীভাবে হয়?

বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘শুধু প্রযোজক কিংবা টিআরপির দোষ দিলে হবে না। আমি বিচারকার্যে গিয়ে যদি অন্যের কথা শুনে আমাকে কাজ করতে হয় তাহলে সে কাজ আমি করবো কেন? তাহলে বলতে হবে সেটা আমার ফরমায়েসী বিচারকার্য। ফরমায়েসী হলে তো আর বলার কিছু নেই।’

আহমেদ হুমায়ূন একজন মিউজিশিয়ান। তিনি  সোশ্যাল হ্যান্ডেলে রিয়েলিটি শো’র বিচারক ইফতেখার আহমেদ ফাহমির বিচারকার্যের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছেন, ‘থু থু ওপর দিকে দিলে নিজের গায়েই পড়ে। এই ভিডিওটি দেখে অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছা করছিলো কিন্তু পারলাম না। বলতে পারেন অনেকটা চেপে গেলাম।শুধু এটুকুই বলবো  প্রত্যেকটা কাজের জন্য সঠিক মানুষ সিলেকশন করা খুব জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে চলছে এই রিয়েলিটির শো’র বিচারকার্যের সমালোচনা। তবে সমালোচনার তীর সবচেয়ে বেশি আসছে নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমি। যিনি অনেক অনেক জনপ্রিয় নাটক নির্মাণ করেছেন। শুধু নির্মাণের জন্যই প্রশংসায় ভেসেছেন এই নির্মাতা। কিন্তু মাসুদ রানার বিচারক হিসেবে প্রচুর সমালোচনার কবলে পড়েছেন তিনি। এছাড়াও সমালোচনার শিকার হয়েছেন জাকিয়া বারী মম, শাফায়েত মুনসুর রানা, ফারহানা নিশো।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়,একজন বিচারক প্রতিযোগিদের কক্ষ থেকে বের করে দিচ্ছিলেন, বলছিলেন অনুমতি নিয়েছো? অথচ বাইরে থেকে ওই কক্ষে ঢোকার নির্দেশনা না আসলে ওই কক্ষে কেউ ঢুকতে পারবে না- এমনটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা বলছেন।

বিচারকার্যে অংশ নিয়েছিলেন মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তিনি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজ বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের বিচারক। চূড়ান্ত পর্যায়ের বিচারকেরা আরো উচ্চ পর্যায়ের। যারা ইতোমধ্যে বিচারকার্য শুরু করেছেন।’

অন্যদিকে জাজ মাল্টিমিডিয়ার বক্তব্য নিতে গেলে জানা যায়, এই রিয়েলিটির শো’র সঙ্গে তারা নেই। প্রতিষ্ঠানের সিইও আলিমুল্লাহ খোকন বলেন, ইউনিলিভারের সাথে আমাদের চুক্তি বাতিল করেছি। আমরা মাসুদ রানা এভাবে আর নির্বাচন করছি না। 

বিষয়টি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে। এখন যেগুলো প্রচার হচ্ছে। সেগুলোর পূর্বের রেকর্ড করা। বর্তমানে এটি মেন’জ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি হিরো হিসেবে বিবেচিত হবেন। তার জন্যও রয়েছে যথার্থ পুরস্কার ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ।