‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর কাছে এনআইডি!

20


নিউজবিটোয়েন্টিফোর.কম কক্সবাজারঃ
কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ বেশ কিছু অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করে। এদিকে, তার কাছে বাংলাদেশের পরিচয় পত্র (এনআইডি) পাওয়া গেছে। যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এনআইডির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে নুর মোহাম্মদ এনআইডি পেলেন?

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, ১৯৯২ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। প্রতিটি ক্যাম্পে স্ত্রী থাকায় তার আধিপত্য বিস্তার সহজ হয়। রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের মালিকানায় বাংলাদেশে চারটি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দোতলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি। রয়েছে একাধিক স্ত্রীও।

আরও জানা যায়, রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। বাবার নাম কালা মিয়া এবং মায়ের নাম সরু বেগম। জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৫ নভেম্বর। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্টগ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়। এ এনআইডি ব্যবহার করে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী।

তবে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি নজরে থাকার কথা শিকার করে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন খান বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ভোটার হতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চেষ্টা করছেন। এনআইডি হয়েছে এ রকম কিছু রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। নুর মোহাম্মদ সেই তালিকায় থাকতে পারেন। কিন্তু এনআইডিটা ভুয়াও হতে পারে। সেটিও তদন্ত করে দেখতে হবে।’

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের মুখপাত্র এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাসপোর্ট অফিস কেন্দ্রীক কিছু দালাল চক্র রোহিঙ্গা শিবিরে এখনো কাজ করছে। এসব দালাল চক্র মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা ভোটার করার পাঁয়তারা করছে। এসব দালালকে দ্রুত চিহ্নিত করা না গেলে আগামীতে আমাদের জন্য ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।’

এর আগে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে আটক নুর মোহাম্মদকে নিয়ে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমোরা ২৭ নম্বর ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় নুর মোহাম্মদের সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হলে নুর মোহাম্মদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় চারটি এলজি, একটি থ্রি কোয়ার্টার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা।

রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নুর মোহাম্মদকে আটক করার পর ভোরের দিকে তাকে নিয়ে জাদিমোড়া এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে নুর মোহাম্মদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুমসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি টেকনাফের জাদিমোড়া নয় নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। যার নেতৃত্ব দেন পাহাড়ি জনপদের ত্রাস, রোহিঙ্গা ডাকাত সরদার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদ। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয় তাকে।