মন্ত্রীর প্রটোকলে বোমা হামলা, এএসআই আহত: নিরাপত্তা জোরদার

20

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের প্রটোকলের বহরে বোমা হামলার ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভাগীয় এবং জেলা শহরে পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দাদের মাঠে নামানো হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে নিয়োজিত র‌্যাবের সকল ইউনিটকে সাবর্ক্ষণিক রাস্তায় টহলের পাশাপাশি তল্লাশির নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এলাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এতে মন্ত্রীর প্রটোকলে নিয়োজিত পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক এএসআই শাহাবুদ্দিন (৩৫) এবং ওই এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুল (৪০) আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাতেই বোমা হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারি। এরপর তিনি বোমায় আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কারা হামলা করেছে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তদন্ত শুরু হয়েছে। সময় হলে আপনাদের সবই বলবো। আইজিপি আরো বলেন, বোমা হামলাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার কর্তৃক মনিটরিংয়ের কথা বলা হয়েছে।

আহত এএসআই শাহাবুদ্দিন

আইজিপির পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থলে আসেন। সেখান থেকে তিনিও আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালে যান। এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ট্রাফিক বক্সে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেই ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি, জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার ও পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য এই হামলা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তদন্তের পর বলা যাবে কী উদ্দেশে, কেন এ হামলা চালানো হয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন, খামারবাড়িতে পেতে রাখা বোমা, পল্টনে পেতে রাখা বোমা সব একই আদলের। এছাড়া গুলিস্তানে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে বোমা নিক্ষেপ, মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ের সামনে পার্কিং করা পুলিশের পিকআপ ভ্যানে বোমা রাখার বিষয়টি একই সূত্রে গাঁথা।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীতে পুলিশের গাড়িতে বোমা হামলার পরই র‌্যাবের সবগুলো ইউনিটকে অস্থায়ী চৌকি তৈরি করে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছেন র‌্যাবের কমর্কতা মিজানুর রহমান। এছাড়া রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়, সচিবালয়, ব্যাংক, বীমা ও সরকারি স্পর্শকাতর ভবনগুলোর সামনে টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বোমা হামলার মূল টার্গেটই ছিল পুলিশ।

বোমা বিস্ফোরণের পর আতঙ্কে আশপাশের লোকজন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করে। পুলিশ দ্রুত পৌঁছে ঘটনাস্থল কর্ডন করে রাখে। বন্ধ করে দেয়া হয় যানবাহন চলাচল। ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও সিটিটিসির সদস্যরা।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ওই সময় তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে যানজট দেখে তার প্রটেকশনের দায়িত্বে থাকা এএসআই শাহাবুদ্দিন গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুলকে রাস্তা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। তখনই বিকট শব্দে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটে।

ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহেদুজ্জামান জানান, সম্ভবত ফুটওভার ব্রিজের ওপর থেকে হাত বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তরা জানান, বিস্ফোরিত বোমাটি আইইডি বা হাতে বানানো শক্তিশালী বোমা।

ঢামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, আমিনুল হাতের আঙুলে ও শাহবুদ্দীন পায়ে আঘাত পেয়েছেন। রাতে শাহাবুদ্দিনের পা থেকে বোমার স্প্লিন্টার অপসারণ করা হয়েছে।