বিএনপি দলটিই জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে: তথ্যমন্ত্রী

18

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
বিএনপি দলটিই জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এ জন্য তিনি দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।

শনিবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব, হত্যাকারীদের রক্ষক ও পুরস্কারদানকারী, তেমনি ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তিনি এক হাজার ৬০০ সেনাসদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করেছেন। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে ছুটি থেকে ডেকে এনেও হত্যা করা হয়েছে। তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সহস্রাধিক আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যা করেছে। এছাড়া ২০০৪ সালে প্রকাশ্য দিবালোকে বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে শেখ হাসিনার প্রাণনাশের অপচেষ্টা, জঙ্গিদের মদদ দিয়ে হত্যা-খুনের রাজনীতি কায়েম এবং পেট্রোলবোমা ছুড়ে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।’

এছাড়া বিএনপির পেট্রোলবোমায় ঘুমন্ত বাসযাত্রী, গাড়ির ঘুমন্ত চালক, অন্তঃসত্ত্বা মা, স্কুলফেরত শিশু-কিশোর এমনকি ইজতেমার মুসল্লিরাও পুড়ে মরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি চার হাজার গাড়ি ও ত্রিশটি লঞ্চ পুড়িয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বইসহ ৫০০ স্কুলঘর পুড়িয়ে দেয়। পোড়া মানুষ আর বইয়ের জন্য আহাজারিতে সেদিন বাতাস ভারি হয়েছিল। বিএনপি জাতির ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, অন্যকথা বলার আগে এসব নির্মম অপরাধের জন্য আগে তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

‘যাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে মানুষ হত্যা, সরকারের সমালোচনা করার অধিকারই তো তাদের থাকে না’- উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য কুশীলবদের বিচারের জন্য একটি কমিশন এবং পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ ও সন্ত্রাসের হুকুমদাতাদের বিচারের জন্যও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা উচিত।’

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আকতার হোসেন, শাহাদাত হোসেন টয়েল, অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।