দুই বছরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩২ রোহিঙ্গা নিহত

23

নিউজবিটোয়েন্টিফোর.কম কক্সবাজারঃ
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় গত দুই বছরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় ৩২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১২জন বিজিবি ও ২০ জন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় বলে জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। নিহতদের অধিকাংশই ইয়াবা কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গারা আশ্রয় গ্রহণের পর অবস্থা অনেকটা শান্তই ছিল। এখন আর তেমনটি নেই। আগে তারা ছিল খাদ্য এবং চিকিৎসার ওপর নির্ভর। আর বর্তমানে রেশনসহ প্রায় সবকিছু ফ্রি পেয়ে অলসতায় তাদের মাথায় দুষ্টবুদ্ধি কাজ করছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়াও ক্যাম্পগুলোয় অর্ধেকেরও বেশি যুবক। ফলে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে সংখ্যাগত দিক দিয়ে একটু খারাপের দিকেই যাচ্ছে। তবে এখনো তা পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

বিশাল এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকা প্রকাশ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার কিছু দিন পর নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। অধিপত্য বিস্তার, ত্রাণ সামগ্রী বণ্টন নিয়ে বিরোধ, পূর্ব-শত্রুতার জের, ইয়াবা কারবার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অপহরণ, খুন, গুম, ধর্ষণের মতো অনেক গুরুতর অপরাধের ঘটনাই ঘটছে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান দেশে অনুপ্রবেশকালে অধিকাংশ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশের সঙ্গে বিভিন্ন সময় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় গত দুই বছরে উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে ৩২ জন রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। এর মধ্যে উখিয়ায় ২৪ জন, টেকনাফে ৮ জন।

সর্বশেষ যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যায় জড়িত দুই রোহিঙ্গা শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে টেকনাফের জাদিমুরা পাহাড়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো, জাদিমুরা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. শাহ ও বালুখালী ক্যাম্পের আবদু শুক্কুর। এসময় দুটি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্যও আহত হয়। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। অনেক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা বিপুল এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কারসাজিতে পরপর দুবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীরাও বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।