মানবতাবিরোধী অপরাধ: রাজশাহীর ফিরোজ খাঁ’র মৃত্যুদণ্ড

18

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর পুঠিয়ার আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ’র বিরুদ্ধে মৃ্ত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩৯তম রায় ঘোষিত হলো।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। সামাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলোর মধ্যে চারটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৮ জুলাই মামলাটি অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা ও জাহিদ ইমাম। আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়। চার সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন ছাড়াও অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৪ জানিুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর ওই বছরের ১২ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে পাচঁ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহীর পুঠিয়ার বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেন। ওই সময় ফিরোজ খাঁর নেতৃত্বে চারজন সাঁতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর লুণ্ঠনসহ ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পুঠিয়া থানার ভালুকগাছী ইউনিয়নের সাঁওতাল পাড়ায় গিয়ে আসামি ফিরোজ খাঁ, পাকিস্তানী সেনাবহিনী ও তার সহযোগীরা স্বাধীনতার পক্ষের লাড়ে হেমব্রম, কানু হাসদা, জটু সরেন ও এবং টুনু মাড্ডিকে তরবারি দিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। তখন এ মামলায় আসামি করা হয়েছিল ছয়জনকে। কিন্তু তদন্ত চলার সময়ই বাকি পাঁচ আসামির মৃত্যু হলে একমাত্র আসমি হিসেবে আব্দুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ থাকেন। তদন্ত চলার সময় নাশকতার মামলায় গ্রেফতার হন এই আসামি। পরে ২০১৭ সালে ২৪ জানুয়ারি তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।