মিয়ানমারকে নিজেদের অস্তিত্ব বোঝাতে সমাবেশঃ মহীবুল্লাহ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রিলিয়াস ফ্রিডমের সময় দেখা করে তাদের নাগরিকত্বের আন্দোলনে শরিক হবার সমর্থন চান।

23
রোহিঙ্গা সমাবেশ। ছবিঃ ইন্টারনেট

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ আরাকান সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটের সভাপতি মহীবুল্লাহ দাবি করেছেন, স্থানীয়দের ভয় দেখাতে সমাবেশ করা হয়নি। ওই বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব বোঝানোর।

গত রবিবার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া এক্সটেনশন-৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খোলা মাঠে সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। সমাবেশের মূল আয়োজক ছিল আরাকান সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইট। রাখাইনে ভয়াবহ সহিংস ঘটনার দ্বিতীয় বছর পূর্তি উপলক্ষে রোহিঙ্গারা এই দিবস পালন করেছে। সমাবেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ থেকে প্রতিবাদের পাশাপাশি ৫টি দাবির কথা জানান রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, নির্যাতনের বিচার, বসত ভিটা এবং মিয়ানমারের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতা।

মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ নিয়ে পলিয়ে আসা এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মানুষ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ, তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য। 

কিন্তু, এতো সংখ্যক রোহিঙ্গাকে একসাথে করা কিভাবে সম্ভব হলো? কারণ ১৯৭৮ সাল থেকে এদেশে থাকলেও কখনো এতো বড় সমাবেশ করেনি রোহিঙ্গা। জবাবে, এই রোহিঙ্গা নেতা জানালেন, প্রতিটি ক্যাম্পে চালানো হয়েছে প্রচারণা। যার নাম দিয়েছে মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম।

রোহিঙ্গাদের এমন বিশাল আয়োজন শুধুই নিজেদের অস্তিত্ব মিয়ানমারকে জানাবার জন্য। মহিবুল্লার অনুরোধ, স্থানীয়রা যেনো এমন শোডাউন কোনো হুমকি মনে না করে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে রিলিয়াস ফ্রিডমের সময় দেখা করে তাদের নাগরিকত্বের আন্দোলনে শরিক হবার সমর্থন চান।

সমাবেশে বক্তারা গত ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা, ধর্ষণসহ বর্বর নির্যাতনের নিন্দা জানান এবং জড়িত সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি জানান। একই সাথে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরার আকুতি জানান।