ডেঙ্গু রোধে কমিশন গঠনের নির্দেশ দেবেন হাইকোর্ট

22

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
এডিস মশা নিধনের যাবতীয় করনীয় নির্ধারণে আগামী বুধবার একটি কমিশন গঠন করে দেবেন হাইকোর্ট। এতে এডিস মশা নিধনে সরকারের কি পদক্ষেপ ছিল। সিটি করপোরেশনের কি করার ছিল। অন্যান্য দেশে কিভাবে ডেঙ্গু রোধ করা হয়। সেসব বিষয়ে নীতিমালা করাই হবে কমিশনের কাজ।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করেন। আদালতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

আদালতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান।

পরে আইনজীবী সাইদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের আদেশ মোতাবেক গত ২০ আগস্ট আমাদের প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। ওই প্রতিবেদনটি আমরা আজকে ফাইল করেছি। আমরা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দেখিয়েছি যে আদালতের আদেশমত গত ১ আগস্ট আমরা ওষুধ আনি। এরপর ওষুধ পরীক্ষা করি। ৭ তারিখে আমরা ওষুধের অর্থ পাই। ১০ তারিখ থেকে ওষুধ ছিটানো শুরু করি।’

তিনি বলেন, দক্ষিণের প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা ওষুধ ছিটাই। ডেঙ্গু বা মশা মুক্ত করতে ৪৭০ জন কর্মী অতিরিক্ত সময়ে কাজ করছে।

আইনজীবী রাজা বলেন, ‘আদালত চাচ্ছিলেন সরকারের কাছে দায়িত্ব দিয়ে মামলাটি শেষ করতে। কিন্তু তা পারেননি। কারণ আদালত দেখছেন, যথাসময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। তাই একটি জুডিশিয়াল অনুসন্ধান বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা অনুসন্ধানে আগামী বুধবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দিয়েছেন আদালত।’

‘ওই দিন আদালত একটা কমিশন গঠন করে দেবেন। যে কমিশন আদালতকে জানাবেন ডেঙ্গু রোধে সরকারের কি পদক্ষেপ ছিল। সিটি করপোরেশনের কি করার ছিল। ডেঙ্গু রোধে অন্যান্য দেশে কিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের নীতিমালাগুলো ও আইন কি আছে সেই অনুযায়ী কাজ করার করতে বলা হবে।’ যোগ করেন আইনজীবী রাজা।

এক প্রশ্নের জবাবে রাজা বলেন, ‘আমি আদালতে বলবার চেষ্টা করেছি, আমাদের যদি কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে সরকারের উচিত এ ব্যাপারে দায়িত্ব নেওয়া। সরকার নিজে এর দায়ভার নেবে।’

আইনজীবী রাজা বলেন, আমার এ বক্তব্যের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল যখন আদালতে দাঁড়ালেন তখন আদালত তাকে জিজ্ঞেস করলেন এতো পৌরসভা, ইউনিয়ন, উপজেলায় কিভাবে আপনারা ওষুধ দেবেন তখনই কিন্তু এটা প্রমাণ হয়ে গেছে সরকারের দায়িত্ব নেওয়া দরকার ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই সরকার এতে ফেল করেছে। আমরা আদালতকে দরখাস্ত দিয়ে বললাম দয়া করে ওষুধটা আমাদের এনে দেন। সরকারের তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলার দরকার ছিল না। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফলে সাত দিন কিন্তু আমরা ওষুধ ছিটাতেই পারিনি। অথচ সরকার চাইলেই তিন দিনের মধ্যে ওষুধ এনে ছিটানো সম্ভব ছিল।

এসব শোনার পরে আদালত আগামী বুধবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেন।

এর আগে সারাবছর মশা নিধনে সরকারের স্থায়ী পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চেয়ে গত ২০ আগস্ট আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।