প্রাথমিকে শিক্ষা বোর্ড, খুশি নন অভিভাবকরা

14

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকাঃ
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিতে শিক্ষা বোর্ড গঠনের খবরে খুশি নন অভিভাবকরা। বরং পরীক্ষাটি তুলে দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও বেশি যুগোপযোগী করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার জন্য আলাদা বোর্ড গঠনের খবর মোটেই ভালো লাগেনি তাদের। এটি ছোট ছোট শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া পরীক্ষার বোঝাকে আরো ভারী করে তুলবে বলে মনে করেন তারা।

রেহানা আহমেদ নামে একজন অভিভাবক বলেন, শিশুরা আগে যেমন বিভিন্ন বিষয় জানতে কৌতুহলী থাকতো এখন আর সেই সুযোগ নেই। সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে তাদেরকে একটি কাঠামোতে ঢুকিয়ে ফেলা হয়েছে। তারা অনেক বেশি গাইড ও টিউশন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য ভাল ফলাফল বয়ে আনবে বলে আমি মনে করিনা।

তামান্না চৌধুরী নামে আরেক অভিভাবক বলেন, সমাপনী পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিশুদের মধ্যে পরীক্ষাভীতি ঢুকে গেছে। বড় হয়ে এরা বাস্তব পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ নিতে গিয়ে ভেঙে পড়বে। সবচেয়ে বড় কথা, পরীক্ষায় ভালো ফল করার আবর্তে ঢুকে পড়ায় শিশুদের সহজাত কৌতুহলকে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্ন রকমের মানসিক চাপ দিচ্ছেন অভিভাবকরা। মাত্রাতিরিক্ত শাসন করছেন। এসব করে করে শিশুদের মানসিকভাবে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাপনী পরীক্ষা তুলে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি। প্রাথমিক শিক্ষাকে কিভাবে আরো আনন্দময় করে তোলা যায় সে দিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে। তাহলেই আমরা একটি চমৎকার প্রজন্ম তৈরি করতে পারব।

তবে সমাপনী পরীক্ষার জন্য বোর্ড গঠন হলে সেটি মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির।

তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য এগারটি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। যদিও তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এখন থেকে সমাপনী পরীক্ষা নিয়মিত নেওয়া হবে, তাই এটি ভালোভাবে নেওয়াই প্রয়োজন।

বোর্ড গঠন করা হলে সমাপনী পরীক্ষার মান উন্নত হবে, সঙ্গে শিক্ষার মানও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

মনজুর কাদির আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা আয়োজনের জন্য আমাদেরকে সারাবছরই ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে ডিপিই-র অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হয়না। শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হিমশিম খেতে হয়। এতে করে প্রাথমিক শিক্ষাই কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই ক্ষতি কমিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানোই আমাদের আপাত লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। এই বোর্ডের অধীনেই শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বোর্ডের অধীনে সমাপনী পরীক্ষা আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে প্রায় ৬৬ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর তিরিশ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে।